
হরিহরপাড়া: নির্বাচনের মুখে বড়সড় ভাঙন আমজনতা উন্নয়ন পার্টিতে। দলের সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই ক্ষোভে দল ছাড়লেন শতাধিক নেতাকর্মী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরিহরপাড়া বিধানসভার চোয়া অঞ্চল এলাকার এই কর্মীরা আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগদান করেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন হরিহরপাড়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী নিয়ামত শেখ।
বৃহস্পতিবার সকালে তৃণমূলের তিন শীর্ষ নেতা কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাস একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন। সেই ভিডিয়োতে হুমায়ুন কবীরকে জনৈক ব্যক্তির সঙ্গে ১০০০ কোটি টাকার একটি ‘ডিল’ নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যাচ্ছে। ভিডিয়োটিতে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, “সংখ্যালঘুদের বোকা বানানো খুব সহজ” এবং “দেশের সব মুসলিম আমার পাশে আছে এটাই আমার উদ্দেশ্য।” যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি টিভি৯ বাংলা। কিন্তু ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই তা নিয়ে ব্যাপক চাপানউতোর শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।
ভাইরাল ভিডিয়োতে আবার হুমায়ুন কবীরকে শুভেন্দু অধিকারী, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নাম নিতে শোনা যায়। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “টাকার বিনিময়ে ধর্ম বিক্রি করা পাপ। একে বেইমান বললেও কম বলা হয়।” তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। বলছেন, “আমার সঙ্গে কারও কথা হয়নি। ক্ষমতা থাকলে প্রমাণ করুন, বিজেপির সঙ্গে আমার কোনও অর্থনৈতিক চুক্তি হয়েছে। পিএমও-র সঙ্গে, শুভেন্দুর সঙ্গে কোনও আঁতাতের প্রমাণ করুক। না পারলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ২০০০ কোটি টাকার মামলা করব।” বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও এই আঁতাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যদিও তার মধ্যেই দলবদলের খবরে নতুন করে চর্চা শুরু।