Hooghly: ‘আমায় অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়েছে আরতি’, ৯ বছর পর প্রেমিকাকে কঠিন সাজা দিল কোর্ট

Court: আদালতের সরকারি আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, "ঘটনার তদন্তকারী অফিসার অমল মণ্ডল সঠিক সময়ে চার্জসিট জমা দেন। মৃতের বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিকে পাঠান। মামলায় ১৪ জন স্বাক্ষী দিয়েছে। আদালত সমস্ত কিছু শুনানির পর আরতি বারিককে দোষী সাব্যস্ত করে গতকাল। আজ যাবজ্জীবন সাজা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। গ্রেফতারের পর থেকে জেলেই ছিলেন অভিযুক্ত।"

Hooghly: আমায় অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়েছে আরতি, ৯ বছর পর প্রেমিকাকে কঠিন সাজা দিল কোর্ট
প্রেমিকাকে যাবজ্জীবন সাজা দিল কোর্টImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Nov 30, 2024 | 8:54 PM

হুগলি: স্বামী ছেড়ে গিয়েছেন। এরপর আরও একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন প্রেমিকা। তবে সেই সম্পর্কের অধঃপতন হওয়ায় প্রেমিককে অ্যাসিড ছোড়ার অভিযোগ ওঠে মহিলার বিরুদ্ধে। প্রায় দশ বছরের মাথায় সেই মামলার সাজা শোনাল আদলত। দোষী সাব্যস্ত হল প্রেমিকাকে। দোষীকে যাবজ্জীবন সাজা দিল বিচারক।

ঘটনাটি ২০১৫ সালের ১৪ই জুন। মধ্য রাতে জাঙ্গিপাড়া থানার লক্ষ্মণপুর গ্রামে বাড়ির পাশে আশ্রমে ঘুমিয়ে ছিলেন শক্তিপদ। ঠিক তার পাশেই থাকতেন স্বামী আরতি বারিক। অভিযোগ, আরতি সালফিউরিক অ্যাসিড ঢলে দেয় শক্তিপদর গায়ে। সেই অ্যাসিড ঝলসানো শরীর নিয়ে শক্তিপদ তাঁর পরিবারকে জানান, আরতি তাঁর গায়ে অ্যাসিড ছুঁড়ে পালিয়েছে। তারপর শক্তিপদকে প্রথমে জাঙ্গিপাড়া ও পরে কলকাতা এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১৮ জুন ২০১৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে আরতিকে গ্রেফতার করে।

দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এই মামলা। এরপর শনিবার মামলার প্রায় নয় বছরের মাথায় শ্রীরামপুর আদালতের দ্বিতীয় ফার্স্ট ট্রাক বিচারক নাইয়ার আজম খান আরতিকে যাবজ্জীবনের সাজা শোনালেন। শ্রীরামপুর আদালতের সরকারি আইনজীবী জয়দীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “ঘটনার তদন্তকারী অফিসার অমল মণ্ডল সঠিক সময়ে চার্জসিট জমা দেন। মৃতের বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ফরেন্সিকে পাঠান। মামলায় ১৪ জন স্বাক্ষী দিয়েছে। আদালত সমস্ত কিছু শুনানির পর আরতি বারিককে দোষী সাব্যস্ত করে গতকাল। আজ যাবজ্জীবন সাজা ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক মাসের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। গ্রেফতারের পর থেকে জেলেই ছিলেন অভিযুক্ত।”

মৃতের ছেলে জয়ন্ত রায় বলেন,”বাবা অনেক কষ্ট পেয়ে মরেছে। বাবার খুনির শাস্তি হতেই বাবার আত্মা শান্তি পাবে। আমরা পুলিশ ও আদালতের কাছে কৃতজ্ঞ।” এই মামলার সরকারি আইনজীবী জানান, “এই মামলার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মৃত্যুকালীন জবানবন্দি এবং ফরেনসিক প্রমাণ। যা পুলিশ ঠিকমত আদালতে পেশ করতে পেরেছিল।”