
হুগলি: ভোটমুখী বাংলায় বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে দাঁত ফোটাতে মরিয়া তৃণমূলের নিলম্বিত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। নিজের দল খুলে নানা রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়েছেন তিনি। একাংশকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন বাবরি মসজিদ তৈরির। একাংশকে ব্রিগেডের মাঠে নমাজ পড়ার। হুমায়ুনের প্রতিটি পদক্ষেপ একটু একটু করে রাজ্যের শাসকশিবিরের সংখ্য়ালঘু ভোটে প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন একাংশ।
এবার এই আবহেই ফুরফুরা শরিফে যাচ্ছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। সূত্রের খবর, আগামিকাল, শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের সংখ্যালঘুদের অন্যতম ধর্মীয় স্থানে যাচ্ছেন তিনি। বৈঠক করবেন পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর সঙ্গে। দেখা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে আব্বাস সিদ্দিকীর সঙ্গেও। এমনকি, জুম্মাবারের দিন নমাজ পড়ে জনসংযোগ কর্মসূচি করার কথাও ভেবে রেখেছেন হুমায়ুন। তবে এই সফর নিয়ে এখনও পর্যন্ত না হুমায়ুন মুখ খুলেছেন, না মুখ খুলেছেন ত্বহা সিদ্দিকী।
যে ত্বহা সিদ্দিকী কিছুটা হলেও মমতা ঘেঁষা। যে ত্বহা সিদ্দিকী হুমায়ুনের ‘ধর্মীয় মেরুকরণ’ নিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন। সেই ত্বহা সিদ্দিকীর সঙ্গেই বাড়ছে তৃণমূলের নিলম্বিত বিধায়কের বৈঠকের সম্ভবনা, তাও আবার নির্বাচন যখন দোরগোড়ায়। অবশ্য শুধুই ত্বহা নয়, সম্ভবনা মেঘ ঘিরে রেখেছে আইএসএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা আব্বাস সিদ্দিকীকেও। সংখ্যালঘু ভোট কাটতে তৃতীয় শক্তিতে জোর দিচ্ছেন হুমায়ুন? প্রশ্ন ওয়াকিবহাল মহলের।
উল্লেখ্য, শেষ জনগণনা অনুযায়ী, বাংলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ থেকে ৩০ শতাংশ জনগণ মুসলিম সম্প্রদায়ের। বিধানসভা নিরিখে সংখ্য়ালঘু প্রভাবিত বিধানসভাও প্রায় ৯০-এর অধিক এবং বেশিরভাগটাই দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণবঙ্গ বিশেষ করে হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর ২৪ পরগনার সংখ্য়ালঘু বিশিষ্ট এলাকাগুলিতে ‘শেষ কথা’ এই ফুরফুরা শরিফ। ভোটমুখী বাংলায় সেই ধর্মীয় স্থানে হুমায়ুনের সফর তবে কি ভোটব্যাঙ্ককে মাথায় রেখেই?