
গোঘাট: তিনি উলুবেড়িয়া উত্তরের বিদায়ী বিধায়ক। এবার তৃণমূল তাঁকে হুগলির গোঘাটের প্রার্থী করেছে। আর গোঘাটে নির্বাচনী প্রচারের সময় তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাজির একটি ভিডিয়ো ঘিরে শাসকদলের অন্দরে শোরগোল পড়েছে। ভাইরাল ভিডিয়ো নির্মল মাজি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দলের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার করছে।আর এই ভাইরাল ভিডিয়োকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে নিশানা করেছে বিজেপি। যদিও নির্মল মাজির দাবি, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে পরিবেশন করা হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, প্রচারের ফাঁকে ভোটারের বাড়িতে বসে রয়েছেন নির্মল মাজি। সেখানেই অন্তর্ঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “এখানে অনেকেই টিকিটের প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু, দিদি যোগ্য মনে করে আমাকে পাঠিয়েছেন। কোনও কোনও কর্মাধ্যক্ষ ফোনে বলছেন, নির্মল মাঝির হয়ে ভোট করাবেন না। সমস্ত তথ্য আমার কাছে আছে। ভোটে জিতে বিধায়ক না হলেও গোঘাটের সাংগঠনিক পরিকাঠামোর পরিবর্তন করব। ফড়েদের হাতে সংগঠন যেতে দেব না। যারা আমার সঙ্গে চলছেন, তাঁদেরই বড় বড় পদে বসাব।”
২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এখানে বিধায়ক ছিলেন তৃণমূলের মানস মজুমদার। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিশ্বনাথ কারকের কাছে তিনি হেরে যান। দলের প্রাক্তন বিধায়ককে নিশানা করেও তৃণমূল প্রার্থীকে বলতে শোনা যায়, উনি কোনও উন্নয়নের কাজ করেননি বলেই হেরেছেন। এছাড়া সাংসদও কাজ করেননি বলে দাবি করেন।
তৃণমূল প্রার্থীর এই ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে শোরগোল পড়ে জেলায়। এব্যাপারে জানতে প্রাক্তন বিধায়ক মানস মজুমদারকে ফোন করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। যদিও গোঘাট-১ তৃণমূল ব্লক সভাপতি কাজল রায়ের দাবি, “কোন নেতা কী করছেন, দলের কাছে সব রিপোর্ট আছে। এখানে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত।”
ভাইরাল ভিডিয়ো নিয়ে পরে নির্মল মাজি দাবি করেন, “দু-একটা জায়গায় একান্ত আলাপচারিতায় আমি বলেছি, আমি প্রার্থী হয়েছি বলে কেউ কেউ অসন্তুষ্ট। এটা বলেছি। আমার কথাকে বিকৃত করে পরিবেশন করা হচ্ছে। মানস মজুমদার যথেষ্ট কাজ করেছেন। আমি কখনও আমার সহকর্মীকে ছোট করতে পারি না। এখানকার প্রত্যেক নেতা-কর্মী অসাধারণ কাজ করছেন।”
এই নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। গোঘাটের বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার বলেন, “এটা ওদের অভ্য়ন্তরীণ ব্যাপার। তবে এখানকার কাউকে প্রার্থী করার জন্য পেল না তৃণমূল। বাইরে থেকে আনতে হল। তবে উনি জিতবেন না।”