
হুগলি: শুনানির সময় একবার বাধা দিয়ে শুনানি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল চুঁচুড়ার তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের বিরুদ্ধে। আর এবার সেই অসিতের সামনেই তুমুল উত্তেজনা মহকুমা শাসকের দফতরে। অভিযোগ, বিধায়কের সামনেই ফর্ম ৭ ছিঁড়ে ফেললেন তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। যদিও, অসিত বললেন, তিনি কিছুই দেখতে পাননি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হুগলির সদর মহকুমা শাসক দফতরে চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলতার সৃষ্টি হয়।
জানা গিয়েছে, এ দিন বেলা বারোটা নাগাদ চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার তাঁর দলবল নিয়ে হুগলির সদর মহকুমা শাসক দফতরে উপস্থিত হন। বিধায়ক ও তাঁর অনুগামীরা দফতরের উপরের তলায় ওঠার পর থেকেই সেখানে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি তুলকালাম হয়ে ওঠে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা ফর্ম–৭ অগণতান্ত্রিকভাবে জমা দিয়ে সাধারণ মানুষকে এসআইআর (SIR)-এর নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই আজ সদর মহকুমা শাসক দফতরে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে আসেন বিধায়ক অসিত মজুমদার ও তাঁর দলীয় কর্মীরা।
অভিযোগ, শুনানি কেন্দ্রে একজন ব্যক্তি ফর্ম–৭ জমা দেওয়ার সময় বিধায়ক ও তাঁর সঙ্গী কর্মীরা সেই ফর্মগুলি ছিঁড়ে ফেলেন। এর জেরেই সদর মহকুমা শাসক দফতরের ভিতরে চরম বিশৃঙ্খলতা ও উত্তেজনামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও, ফর্ম–৭ ছিঁড়ে ফেলার সময় তাঁদের কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকায় দেখা যায় বলে অভিযোগ।
উত্তেজনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী উপস্থিত হয় সদর মহাকুমা শাসক দফতরে। বিধায় অসিত বলেন, “জোর করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেবে হয় নাকি। ওরা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। কালকে সুকান্ত মজুমদার বলছেন, হুগলির লোকসভা ১ লক্ষ ২৬ হাজার ভোটারের নাম বাদ হয়ে গেছে। ও কথা থেকে জানল? এইআরওগুলো কি ওর দালাল নাকি? জোর করে মানুষের ভোটাধিকার কাড়ার বিরুদ্ধে তিনি।” তবে ফর্ম ছেড়া নিয়ে অসিত বলেন, কই আমি এমন কিছুই দেখিনি।” বারবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি বলেন, “কে ছিঁড়েছে জানি না।” বিজেপি নেতা সুরেশ সাহা বলেন, “বেশ কয়েকদিন ধরেই ফর্ম ৭ নিয়ে আসছি। প্রশাসন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্তি করে এসিডও অফিসে কী শুরু করেছে দেখুন। বিধায়ক দলবল নিয়ে এসে আমাদের কর্মীদের উপর চড়াও হয়েছে।“