Trinamool Congress: দলীয় কমিটিতে ঠাঁই নেই, ভোটের মুখে সমান্তরাল কমিটি গড়ে বিতর্কে তৃণমূলের আদি নেতারা

TMC: গত নভেম্বর মাসে আগের অঞ্চল কমিটি গুলিকে ভেঙে দিয়ে জলপাইগুড়ি জেলায় তৃণমূলের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন অঞ্চল কমিটি গঠন করা হয়। সেই মতো বাহাদুর অঞ্চলেও নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়। নতুন অঞ্চল কমিটিতে পুরনোদের বাদ দিয়ে নতুন করে অঞ্চল কমিটি করা হয়।

Trinamool Congress: দলীয় কমিটিতে ঠাঁই নেই, ভোটের মুখে সমান্তরাল কমিটি গড়ে বিতর্কে তৃণমূলের আদি নেতারা
রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর Image Credit source: TV 9 Bangla

| Edited By: জয়দীপ দাস

Jan 20, 2026 | 8:43 PM

জলপাইগুড়ি: অনেক আগে একবার তৃণমূল বাঁচাও মঞ্চ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সম্ভবত এই প্রথম রাজ্যে তৃণমূলের কোনও সমান্তরাল কমিটি তৈরি হল। দলের অঞ্চল কমিটিতে ঠাঁই না পেয়ে সেই অভিমান মেটাতে এবার যুগ্ম আহ্বায়ক তৈরি করে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাহাদুর অঞ্চলে এই কমিটি তৈরি করা হলো। তা নিয়েই চর্চা রাজনৈতিক আঙিনায়। 

জানা গিয়েছে তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে ওই অঞ্চলে সমান্তরালভাবে দল চালাবেন আদি তৃণমূল কর্মীরা। সোমবার সন্ধ্যার মুখে জলপাইগুড়ি বাহাদুর অঞ্চলে তেঁতুল তলার মাঠে সম্মেলন শুরু করা হয়। রাত পর্যন্ত চলে সম্মেলন। তৃণমূল জেলা কমিটির সদস্য পল হাসানের উপস্থিতিতে মেহেবুব আলম এবং পরেশ চন্দ্র রায় এই দুইজন আদি তৃণমূল নেতাকে যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়।

গত নভেম্বর মাসে আগের অঞ্চল কমিটি গুলিকে ভেঙে দিয়ে জলপাইগুড়ি জেলায় তৃণমূলের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন অঞ্চল কমিটি গঠন করা হয়। সেই মতো বাহাদুর অঞ্চলেও নতুন কমিটি ঘোষনা করা হয়। নতুন অঞ্চল কমিটিতে পুরনোদের বাদ দিয়ে নতুন করে অঞ্চল কমিটি করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় হরেকৃষ্ণ শর্মাকে। আর এখান থেকেই শুরু হয় দ্বন্দ্ব। 

অভিযোগ নতুন অঞ্চল সভাপতি হরেকৃষ্ণ শর্মা মাত্র কয়েক মাস আগে সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত তিনি জোড়া ফুলে ভোট দেননি। এমন একজনকে কেব নতুন অঞ্চল কমিটির সভাপতি করা হল, তা নিয়ে বিদ্রোহ শুরু হয়ে যায় দলের অন্দরেই। নভেম্বর মাসের শেষ দিকে সভা ডাকেন বিক্ষুব্ধ আদি তৃণমূল নেতা কর্মীরা। সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। জেলা নেতৃত্বকে সিদ্ধান্ত বিবেচনার জন্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়।

তবে ১৫ দিন পার হয়ে মাস দু’য়েক হয়ে গেলেও জেলার কেউ আদি তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দেখা করেননি। তাই রাগে ও অভিমানে সোমবার নতুন করে কমিটি গড়ে আন্দোলনে নামলেন আদি তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

এদিনের সভামঞ্চ থেকে নাম না করে জেলার নেতাদের উদ্দ্যেশ্যে করে একের পর এক তোপ দাগেন তৃণমূল জেলা কমিটির সদস্য পল হাসান। তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বর্তমান অঞ্চল এবং জেলা কমিটির নেতাদের স্বজনপোষণ, আর্থিক কেলেঙ্কারি, টাকার বিনিময়ে চাকরি ইত্যাদি প্রসঙ্গ টেনে তুলোধনা করেন। পল হাসান বলেন, “এরা আর্থিক কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন দুর্নীতিতে যুক্ত। তাদের নেতা হিসেবে মেনে নিতে আমাদের অসুবিধা আছে। আমরা অনেক সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু এরা কিছুই করেনি। তাই আজ থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক এই এলাকায় দল পরিচালনা করবে।” 

মহসিন হোসেন নামে এক আদি তৃণমূল কর্মী বলেন, “আমি আগেও বলেছি আবার বলছি যারা অঞ্চল চালাচ্ছে তারা হার্মাদ। আমি ১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল করি। তখন তৃণমূল করার অপরাধে এইসব হার্মাদের দল আমাদের উপর আক্রমণ করতো।” ভানু দাস নামে আর এক আদি তৃণমূল কর্মী বলেন, “আমি স্বপ্নেও ভাবিনি আমাদের এমন করুন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। আমাদের সম্মান না দিলে এইভাবেই অঞ্চল চলবে।” 

ঘটনায় তৃণমূল অঞ্চল কমিটির ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট নুরুল আলম প্রধান বলেন, “আমাদের উপর মহল থেকে কমিটি করে দেওয়া হয়। সেই কমিটিকে মেনে নিতে হয়। এইভাবে সমান্তরাল কমিটি গঠন করা দল বিরোধী কাজ।” 

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই হরেকৃষ্ণ শর্মা বলেন, “আমি নিজে থেকে কমিটির সভাপতি হইনি। দল আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে। তাই আজ আমি অঞ্চল সভাপতি। শুনলাম সমান্তরাল কমিটি গঠন করা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত। এই কাজ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। বিষয়টি উচ্চ নেতৃত্বকে জানাব।”

খোঁচা দিতে ছাড়ছে না বিজেপি। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য নকুল দাস বলেন, “তৃণমূলের কমিটি নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা নেই। আদি নব্য বলে কোনও ব্যাপার নয়। যে টাকা তুলে দিতে পারবে তাকে পদ দিয়ে আসনে বসানো হবে। তবে এইসব বেশি দিন চলতে পারে না। এবার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল বিদায় নেবে।”