Dhupguri: চলছিল কোর কমিটির সভা, সেখান থেকেই বিধায়ক নির্মলকে ‘অপদার্থ’ বললেন তৃণমূল নেতারা

বিজেপির বিরুদ্ধে সভার ডাক দেওয়া হলেও, সভার শুরু থেকেই একাধিক নেতৃত্বের বক্তব্যে ধূপগুড়ির বর্তমান বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ পায়। এদিন মঞ্চে কৃষ্ণ দাস থাকাকালীন তৃণমূল নেতা তাপস কর ধূপগুড়ির তৃণমূল বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়কে বেনজির আক্রমণ করেন তার বক্তব্যে। বিধায়ককে 'অপদার্থ' বলেও আখ্যা দেন।

Dhupguri: চলছিল কোর কমিটির সভা, সেখান থেকেই বিধায়ক নির্মলকে অপদার্থ বললেন তৃণমূল নেতারা
নির্মলকে কটাক্ষImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Jan 10, 2026 | 12:22 PM

ধূপগুড়ি: নির্বাচনের মুখে ধূপগুড়িতে তৃণমূলের এসসি-ওবিসি সেলের কর্মী সভা থেকে ধুপগুড়ি তৃণমূল বিধায়ককে বেনোজির আক্রমণ নেতাদের। অপদার্থ পরিযায়ী বিধায়ক বলে আক্রমণ ধূপগুড়ি বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়কে। এমনকী কোর কমিটির একাংশের অনুপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে জল পড়া জল্পনা। গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে সভায় অনুপস্থিত মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে ধূপগুড়িতে এসসি ও ওবিসি সেলের উদ্যোগে এক কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই সভাতে তৃণমূল কংগ্রেসের ধূপগুড়ি ব্লক কোর কমিটির চার সদস্যে ও জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং-এর অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

শুক্রবার ধূপগুড়ি কমিউনিটি হলে পুণ্যশ্লোক মঞ্চে অনুষ্ঠিত এই কর্মী সভা আয়োজন করে ধূপগুড়ি টাউন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের এসসি ও ওবিসি কমিটি। স্বর্গীয় চন্দ্রকান্ত রায়ের স্মৃতিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদনের মাধ্যমে সভার সূচনা হয়। এই সভার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস এসসি ও ওবিসি সেলের জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি কৃষ্ণ দাস। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা অশোক বর্মন, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অরুপ দে সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।

বিজেপির বিরুদ্ধে সভার ডাক দেওয়া হলেও, সভার শুরু থেকেই একাধিক নেতৃত্বের বক্তব্যে ধূপগুড়ির বর্তমান বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ পায়। এদিন মঞ্চে কৃষ্ণ দাস থাকাকালীন তৃণমূল নেতা তাপস কর ধূপগুড়ির তৃণমূল বিধায়ক নির্মল চন্দ্র রায়কে বেনজির আক্রমণ করেন তার বক্তব্যে। বিধায়ককে ‘অপদার্থ’ বলেও আখ্যা দেন। তাপস কর অভিযোগ করেন, ধূপগুড়িতে তৃণমূল দুর্বল হওয়ার জন্য দায়ী ধূপগুড়ি কোর কমিটির চার অপদার্থ সদস্য এবং অপদার্থ বিধায়ক। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফল খারাপ হলে তার দায়ী নিতে হবে বিধায়ককে। হারলে ঘর থেকে টেনে বের করা হবে বিধায়ক কে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ।

মঞ্চে নেতৃত্বরা তাপস পরের ভাষাতেই সুর মিলিয়েছেন, ধূপগুড়ি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হলে তার দায় বর্তমান বিধায়কের ওপরই বর্তাবে। একের পর এক বক্তৃতায় উঠে আসে গোষ্ঠী কোন্দল, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং নিচু তলার কর্মীদের সঙ্গে নেতৃত্বদের যোগাযোগের অভাবের অভিযোগ। অনেক কর্মীই অভিযোগ করেন, সমস্যায় পড়লে শহরের নেতারা পাশে দাঁড়ান না।

এই কর্মী সভায় দেখা যায়নি তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং সহ কোর কমিটির একাধিক সদস্যকে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। তবে কোর কমিটির সদস্যদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জেলা এসসি ও ওবিসি সেলের সভাপতি কৃষ্ণ দাস জানান, সকলকেই সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কেন তাঁরা উপস্থিত হননি, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। তাঁর দাবি, সম্ভবত অন্য কাজে ব্যস্ত থাকার কারণেই তাঁরা আসতে পারেননি।

অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং বলেন,”আজকের সভায় আমি উপস্থিত থাকতে পারিনি। এসআইআর সংক্রান্ত কাজে অন্যত্র ব্যস্ত ছিলাম, সেই কারণেই যাওয়া সম্ভব হয়নি।” তবে কোর কমিটির অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষ্ণ দাস বলেন, “হলঘরে সভার আয়োজন করা হয়েছে যাতে কর্মীরা তাঁদের মনের কথা খুলে বলতে পারেন। কোথায় কী দুর্বলতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে ধূপগুড়িতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই আমাদের লক্ষ্য। সমস্ত বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত।” তবে নির্মলের বক্তব্য মেলেনি।