Jalpaiguri News: ১৫০ কোটি টাকার পানীয় জলের প্রকল্প উদ্ধোধন করেও তৃণমূল নেতা সেই জল না খেতে বারণ করলেন
Jalpaiguri: যেখানে জল প্রকল্পের উদ্বোধন হলো ঠিক তার উল্টোদিকে বাড়ি প্রদীপ সরকারের। তিনি বলেন, প্রকল্প উদ্বোধন হল। কিন্তু আমাদের বাড়ি সহ ১ নং ওয়ার্ডে জলের কানেকশন এখোনও হয়নি। আমি টাইম কলের জল ব্যাবহার করি। আমরা চাই দ্রুত কানেকশন দেওয়া হোক।" শহরের ২৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাবলু হাজরা। তিনি বলেন, "আমাদের বাড়িতে জলের কানেকশন দেওয়া হয়েছে। জল আসে। কিন্তু ওই জল ব্যাবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।আমি চাই বিশুদ্ধ পানীয় জল বাড়িতে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হোক।"

জলপাইগুড়ি: এ এক তাজ্জ্বব ঘটনা। পানীয় জল প্রকল্প উদ্বোধন করেও, ওই জল পান করতে নিষেধ করলেন পৌরপিতা। আর এই নিয়ে নতুন বছর পড়তে না পড়তেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠল জলপাইগুড়ি শহরে। মূলত, ১৫০ কোটি টাকার ‘আম্রুত প্রকল্পের’ উদ্বোধন হয়েছে সেখানে। কিন্তু শহরবাসীর বাড়িতে জল পৌঁছল না। ওই জলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে অন্তত আরও ৪৫ দিন। তাও দেড় মাস পর থেকেই যে বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত জল মিলবে সেই নিশ্চয়তা দিতে পারলেন না জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। বিজেপির দাবি, ভোটের মুখে ফটোসেশান করার জন্যই কি উদ্বোধন?
জলপাইগুড়ি পুর এলাকায় ‘আম্রুত প্রকল্পের’ মাধ্যমে বাড়ি-বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের মধ্যে। বুধবার বছরের শেষদিন দুই নম্বর ওয়ার্ডের রায়কত পাড়ায় তড়িঘড়ি আম্রুত প্রকল্পের উদ্বোধন করল পুরসভা। কিন্তু শহরের সব ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি জল কবে দেওয়া হবে তা নিয়ে প্রশ্নই থেকেই গেল। পুরসভার দাবি, এখন যে জল দেওয়া হবে সেটা পানের যোগ্য নয়। নতুন বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি বিশুদ্ধ পানীয় জল দেওয়ার প্রথম ধাপের কাজ শুরু হবে।
প্রায় ১৫০ কোটি ব্যায়ে জলপাইগুড়ি পুরসভায় শুরু হয়েছে আম্রুত প্রকল্পের কাজ। ৫০ শতাংশ টাকা কেন্দ্র, ৪৫ শতাংশ টাকা রাজ্য ও ৫ শতাংশ টাকা পুরসভা থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তিস্তা নদী থেকে জল তুলে সুকান্ত নগরে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে কয়েক দফায় বিশুদ্ধকরণ পর পাইপের মাধ্যমে জল পৌঁছে যাবে পুর এলাকার থাকা আটটি জলের রিজার্ভারে। যেখান থেকে পুর এলাকার ২৫ টি ওয়ার্ড সহ খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের একাংশ এলাকা মিলিয়ে প্রায় তিন লক্ষ বাসিন্দাদের জন্য এই বিশুদ্ধ পানীয় জলের পরিষেবা চালু করা হচ্ছে।
এ দিন, শহরের ২ নং ওয়ার্ডে পুরসভার জলের রিজার্ভারে এক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আম্রুত প্রকল্পের প্রথম ধাপের সূচনা করা হয়। মজুত করা জল ছাড়া হয়। শহরের অধিকাংশ ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। একাংশ ওয়ার্ডের জল ঘোলা ও দুর্গন্ধ এ ছাড়া পর্যাপ্ত জল পাওয়া যাচ্ছে না। এই কারণে আম্রুত প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি জল পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিরোধীদের কটাক্ষ, ঘোষণা করেও নির্দিষ্ট সময়ে জল পরিষেবা চালু করতে পারেনি পুরসভা। সামনে ভোট। তাই অসমাপ্ত প্রকল্প উদ্বোধন করে চমক দেওয়ার চেষ্টা। কিন্তু মানুষ সব বুঝে গিয়েছে তাই তৃণমূলের ফটোসেশান দেখে মানুষ ক্লান্ত। আর এদের ভোট দেবে না। বিজেপির প্রাক্তন জেলা সম্পাদক শ্যাম প্রসাদ বলেন, “এ দিনের কর্মসূচিতে চেয়ারম্যান অনুগামী কাউন্সিলরদের দেখা গেলেও দেখা যায়নি ভাইস চেয়ারম্যানকে। গোষ্ঠী কোন্দল তাই আসেনি। ফটোসেশান ছাড়া আর কিছু নয়।”
যেখানে জল প্রকল্পের উদ্বোধন হলো ঠিক তার উল্টোদিকে বাড়ি প্রদীপ সরকারের। তিনি বলেন, প্রকল্প উদ্বোধন হল। কিন্তু আমাদের বাড়ি সহ ১ নং ওয়ার্ডে জলের কানেকশন এখোনও হয়নি। আমি টাইম কলের জল ব্যাবহার করি। আমরা চাই দ্রুত কানেকশন দেওয়া হোক।” শহরের ২৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাবলু হাজরা। তিনি বলেন, “আমাদের বাড়িতে জলের কানেকশন দেওয়া হয়েছে। জল আসে। কিন্তু ওই জল ব্যাবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। আমি চাই বিশুদ্ধ পানীয় জল বাড়িতে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হোক।”
বিরোধীদের কটাক্ষ শুনে অবশ্য কিছুটা মেজাজ হারান চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। বলেন, “১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যদি বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত জল না দিতে পারি তবে আমাদের আর ভোট দেবেন না। পাশাপাশি ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাতর অনুপস্থিতি সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে চেয়ারম্যান বলেন বলতে পারব না। হয়তো কোনও কাজে ব্যস্ত আছেন তিনি।”
