AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Dhupguri: ধূমধাম করে বিয়ে, এলাহি আয়োজন গ্রামবাসীর, পাত্র-পাত্রী কারা?

Jalpaiguri marriage: কনেপক্ষ হিসেবে আসা সুমিত্রা রায় নামে এক মহিলা বলেন, “আমরা কনেপক্ষ হিসেবে অংশ নিয়েছি। গায়ে হলুদ থেকে মালাবদল সব কিছুই খুব আনন্দের সঙ্গে হয়েছে। গ্রামের সবাই একসঙ্গে কাজ করেছে। তাই অনুষ্ঠানটা এত সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

Dhupguri: ধূমধাম করে বিয়ে, এলাহি আয়োজন গ্রামবাসীর, পাত্র-পাত্রী কারা?
ধুমধাম করে হল বট-পাকুড়ের বিয়েImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Feb 21, 2026 | 7:01 PM
Share

ধূপগুড়ি: একেবারে এলাহি আয়োজন। বাজছে বাজনা। মাইকে গানের তালে কোমর দোলাচ্ছেন কেউ কেউ। প্রায় ৪০০ জনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিয়েবাড়ি বলে কথা। কিন্তু, পাত্র-পাত্রী কই? তাদের তো দেখা যাচ্ছে না। একটু এদিক ওদিক নজর দিতেই দেখা গেল, দুটি গাছকে ঘিরে মহিলারা ভিড় করেছেন। আজ ওই গাছ দুটিই যে পাত্র ও পাত্রী। এভাবেই বট-পাকুড়ের ধুমধাম করে বিয়ে হল জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে।

ধূপগুড়ির বারঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানপাড়া এলাকায় দেখা গেল এই অভিনব আয়োজন। পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা বট ও পাকুড় গাছের প্রতীকী বিয়েকে ঘিরে গ্রামজুড়ে যেন উৎসবের ঢেউ। কয়েকশো আমন্ত্রিত অতিথি, ব্যান্ড-বাজনা, শাস্ত্রমতে মন্ত্রোচ্চারণ, সব মিলিয়ে মানুষের বিয়ের মতোই জমে উঠল গাছেদের বিবাহ।

গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, পাশাপাশি বট ও পাকুড় গাছ থাকলে তাদের বিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। সেই সংস্কার মেনেই ধার্য হয় শুভ দিন। ভোররাতে অধিবাসে দই-চিঁড়ে দেওয়া হয়, পরে গায়ে হলুদ, আলতা পরানো সব আচারই পালন করা হয় নিয়ম মেনে। নদী থেকে পূজার জল এনে গাছ দুটিকে স্নান করানো হয়। একটিকে লাল ও অন্যটিকে সাদা কাপড়ে সাজিয়ে টোপর পরানো হয়। মালাবদল ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় বিয়ে।

এই বিয়েতে ছিল বরপক্ষ ও কনেপক্ষের আলাদা আয়োজন। অনেকেই বরযাত্রী হিসেবে অংশ নেন। ব্যান্ড পার্টির তালে নাচে-গানে মেতে ওঠেন গ্রামবাসীরা। গাছ দুটিকে ঘিরে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জায় তৈরি হয় উৎসবের আবহ। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পাঁচ-সাতটি গ্রামের মানুষ ভিড় জমান বিরল এই দৃশ্য দেখতে।

অতিথিদের জন্য ছিল পাত পেড়ে ভূরিভোজ। কাতলা মাছের ভাপা, ছোট মাছের চচ্চড়ি, নানা রকম সবজি, ডাল, দই ও মিষ্টি সব মিলিয়ে ছিল পরিপূর্ণ নৈশভোজের ব্যবস্থা। গ্রামবাসীদের দাবি, গাছের বিয়ে না দিলে পূজা সম্পূর্ণ হয় না। এই বিশ্বাস থেকেই এমন উদ্যোগ।

দীনবন্ধু রায় নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমাদের গ্রামে বহু বছর আগে এই দুটি গাছ রোপণ করা হয়েছিল। বড়রা বলতেন, বট ও পাকুড় পাশাপাশি থাকলে তাদের বিয়ে দেওয়া উচিত। সেই প্রথা মেনেই আমরা এই আয়োজন করেছি। সবাই মিলেমিশে আনন্দ করেছি, এ যেন গ্রাম্য ঐক্যের উৎসব।”

গোবিন্দ রায় নামে আমন্ত্রিত এক অতিথি বলেন, “এত সুন্দর আয়োজন আগে দেখিনি। পুরো অনুষ্ঠানটা দেখে মনে হচ্ছিল সত্যিকারের বিয়ে হচ্ছে। শাস্ত্র মেনে সব রীতি পালিত হয়েছে, আবার খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল দারুণ।”

কনেপক্ষ হিসেবে আসা সুমিত্রা রায় নামে এক মহিলা বলেন, “আমরা কনেপক্ষ হিসেবে অংশ নিয়েছি। গায়ে হলুদ থেকে মালাবদল সব কিছুই খুব আনন্দের সঙ্গে হয়েছে। গ্রামের সবাই একসঙ্গে কাজ করেছে। তাই অনুষ্ঠানটা এত সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।” সব মিলিয়ে বট-পাকুড়ের এই প্রতীকী বিয়ে শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, হয়ে উঠেছে গ্রামবাসীদের মিলনমেলা। প্রধানপাড়ায় দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ।