
মালদহ: দুপুর ৩টে বেজে ১০ মিনিট পর্যন্ত মালদহের মঞ্চ থেকে ভাষণ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি যখন নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত, সেই সময় কলকাতায় উথাল পাথাল অবস্থা। কখনও প্রতীকের বাড়ি, কখনও বা তাঁর অফিস। কখনও তোপ দাগছেন তৃণমূল সুপ্রিমো, কখনও বিজেপি দিচ্ছে মামলা করার হুঁশিয়ারি। ভোটমুখী রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে এদিনের ঘটনা নজিরবিহীন। কিন্তু সেই সব নিয়ে একটা শব্দ পর্যন্ত খরচ করলেন না তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। গোটা বিষয়টাই এড়িয়ে গেলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্য সরকার এবং তৃণমূলের ‘পরামর্শদাতা’ সংস্থা আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের দফতরে এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউউন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকেরা। সেই সূত্র ধরেই প্রথমে প্রতীকের বাড়ি এবং তার পরে তৃণমূলের আইপ্যাকের অফিসে পৌঁছে যান মমতা। দুই জায়গা থেকে বেশ কিছু ফাইল নিয়ে এসে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ভোটের রণকৌশল, দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি, প্রার্থী তালিকা চুরির চেষ্টা চলছে।’
এদিন যখন ইডি-হানা ঘিরে তুঙ্গে পারদ, সেই সময় মালদহে সভা করছিলেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। মমতা একাধিক শব্দ খরচ করে শহরজুড়ে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিলেও, অভিষেক থেকেছেন চুপ। প্রতিক্রিয়া তো দূরহস্ত, শহরে যে এমন ঘটনা ঘটেছে, নিজের নির্বাচনী প্রচারে তা এক মুহূর্তের জন্য তুলে ধরেননি তিনি। বরং পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধাকেই সভার মূল অভিমুখ হিসাবে তুলে ধরেন অভিষেক। বাংলার বাইরে পরিযায়ী শ্রমিকরা কীভাবে ‘নির্যাতিত’ হয়ে চলেছেন, সেই ইস্য়ুটিকেও হাতিয়ার করেন তিনি।
এমনকি, ৪টে বেজে ৪০ মিনিট নাগাদ অভিষেক যখন বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে নামলেন, সেই সময়ও কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা গেল না তাঁকে। নেমেই সটান বেরিয়ে গেলেন অভিষেক। মৌনতা? এড়িয়ে যাওয়া নাকি রাজনৈতিক কৌশল? অভিষেকের আচরণ ঘিরে প্রশ্ন অনেক। তবে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কোনটা বলবেন, কোনটা বলবেন না, সেই নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে পারি না।’ অন্যদিকে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘এটা তৃণমূলের কৌশল হতে পারে। ওনার নাম তো কয়লা-কাণ্ডে বারংবার এসেছে।’