Madhyamik 2026: ‘এটার উত্তর, এটা হবে…’, প্রশ্ন ধরে ধরে উত্তর বলে দিচ্ছিলেন! মাধ্যমিকে তৃণমূলের দাপুটে নেতার কাণ্ডে পর্ষদ যা বলল…
Madhyamik 2026: মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বরখাস্তের নির্দেশ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড থাকবেন ওই শিক্ষক বলেই উল্লেখ। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট মথুরাপুর বিএসএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অতীন্দ্রনাথ দাস গোটা ঘটনা নিয়ে কিছু বলতে না চাইলেও তদন্ত হোক বলে জানিয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার আলি পারভেজ মানিকচক ব্লক তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব রয়েছে। আর এতেই তীব্র ভাবে আক্রমণ সুর চরাচ্ছে বিজেপি।

মালদহ: তৃণমূল নেতা। দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনিই আবার শিক্ষক। আর সেই শিক্ষককে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের টুকলিতে সাহায্য করা, উত্তর বলে দেওয়ার অভিযোগে সাসপেন্ড করল মধ্য শিক্ষা পর্ষদ। মালদহের মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর বিএসএস উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষা কেন্দ্রের ঘটনা।অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার আলি পারভেজ। তিনি মথুরাপুর বিএসএস উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা চলাকালীন এই শিক্ষক একটি কাগজে উত্তর লিখে পরীক্ষার্থীদের নকল করতে সহযোগিতা করেন বলেই অভিযোগ। ঘটনাক্রম যদি বলা হয়, তা যথেষ্টই নাটকীয়। ওই শিক্ষকের যেখানে গার্ড দেওয়ার কথা ছিল, তিনি সেখানে গার্ড না দিয়ে, চলে যান পাশের রুমে। অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তিনি টেবিলের ওপর থেকে একটি লুজ় শিট হাতে তুলে নেন। তারপর প্রশ্ন দেখে সেখানে উত্তরগুলোও লিখে ফেলেন। তাঁর বিষয়েরই পরীক্ষা ছিল। ফলে দ্রুত উত্তর লিখে ফেলেন। এরপর, সেই শিট দেখে পাখি পড়ানোর মতো পরীক্ষার্থীদের পড়াতে শুরু করেন। অভিযোগ, তিনি প্রশ্ন ধরে ধরে উত্তর বলে দিতে থাকেন। এই ভাবেই চলছিল গোটা পরীক্ষা। গোটা বিষয়টির ছবি-ভিডিয়ো করেন স্কুলেরই কেউ একজন। সেটি পর্ষদের কাছে পৌঁছয়। পর্ষদের কাছে পৌঁছতেই কড়া পদক্ষেপ। ওই শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই একই রকম অভিযোগ উঠেছে আরও ৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তাঁদেরকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।
মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বরখাস্তের নির্দেশ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড থাকবেন ওই শিক্ষক বলেই উল্লেখ। তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট মথুরাপুর বিএসএস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অতীন্দ্রনাথ দাস গোটা ঘটনা নিয়ে কিছু বলতে না চাইলেও তদন্ত হোক বলে জানিয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার আলি পারভেজ মানিকচক ব্লক তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব রয়েছে। আর এতেই তীব্র ভাবে আক্রমণ সুর চরাচ্ছে বিজেপি।
প্রধান শিক্ষক অতীন্দ্রনাথ দাস বলেন, “এই মুহূর্তে আমার পক্ষে কিছু বলা সম্ভব নয়। তদন্ত হচ্ছে।” বিজেপির মন্ডল সভাপতি সুভাষ যাদব বলেন, “শিক্ষার বেহাল অবস্থা। বেকাররা চাকরি পাচ্ছে না। পড়াশোনার প্রতি ছেলেমেয়েদের অনীহা চলে এসেছে। এই সরকার শিক্ষাকে তলানিতে নিয়ে গিয়েছে। এবার যা দেখলাম, সেই শিক্ষক, যিনি আবার তৃণমূলের নেতা, কাগজে লিখে নকল করিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। ভেবেছিলেন তৃণমূল নেতা বলে যা করার তাই করব। পর্ষদ তাঁকে সাসপেন্ড করেছে।”
