Mothabari Congress candidate: ‘মোথাবাড়িতে বড় ষড়যন্ত্র হয়েছে’, ‘লুকিয়ে’ বৈঠকের ফাঁকেই বিস্ফোরক কংগ্রেস প্রার্থী
West Bengal assembly election 2026: কেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছেন তিনি? এই প্রশ্নের উত্তরে মোথাবাড়ির কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, "এখানে এবছর লড়াই কংগ্রেস বনাম কংগ্রেস। তৃণমূল এখানে নেই। সেজন্য প্রশাসনকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এখানে তৃণমূল তৃতীয় স্থানে থাকবে। সাবিনা ইয়াসমিনকে এখান থেকে সরানো হয়েছে, কারণ উনি এখানে জিততে পারবেন না।"

মালদা: ভোটের বাংলায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনা নিয়ে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিচারকদের ঘেরাওয়ের ঘটনার তদন্তে নেমেছে এনআইএ। এরই মধ্যে কার্যত লুকিয়ে প্রচার সারছেন মোথাবাড়ির কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরী। যেকোনও মুহূর্তে তাঁর নামেও মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা কংগ্রেস প্রার্থীর। তাই বাড়ি বাড়ি প্রচারেও কার্যত ছেদ পড়েছে। মোথাবাড়ির ওই ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন কংগ্রেস প্রার্থী। পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের ষড়যন্ত্র বলে তাঁর অভিযোগ।
এদিন কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে টিভি৯ বাংলার প্রতিনিধি যখন পৌঁছলেন, দেখা গেল কার্যত লুকিয়ে থেকে বৈঠক করছেন সায়েম চৌধুরী। এর কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “জনসাধারণ নিজেদের অধিকারের লড়াই লড়ছিল। সেখানে কিছু অসাধু লোককে সাধারণ মানুষের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূল এটা করছে। আজকে সেটা বলা হচ্ছে, অন্য দলের লোক করেছে। বাড়ি বাড়ি পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। প্রার্থী যাতে প্রচারে বেরতে না পারে, সেই পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। এটা তৃণমূলের চক্রান্ত।”
কেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করছেন তিনি? এই প্রশ্নের উত্তরে মোথাবাড়ির কংগ্রেস প্রার্থী বলেন, “এখানে এবছর লড়াই কংগ্রেস বনাম কংগ্রেস। তৃণমূল এখানে নেই। সেজন্য প্রশাসনকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এখানে তৃণমূল তৃতীয় স্থানে থাকবে। সাবিনা ইয়াসমিনকে এখান থেকে সরানো হয়েছে, কারণ উনি এখানে জিততে পারবেন না।”
কংগ্রেস কোনও অসাংবিধানিক আন্দোলন করেনি জানিয়ে তিনি বলেন, “এর আগেও মোথাবাড়িতে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে তৃণমূলের চক্রান্ত ছিল। তার ফলে সাধারণ মানুষ জেলে খেটেছে। এবারও সেই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। কংগ্রেস কখনও অসাংবিধানিক আন্দোলনে যায়নি। যাবেও না। যারা প্রকৃত দোষী, তাদের গ্রেফতার করুক। কিন্তু, নিরীহ মানুষকে যেন গ্রেফতার না করা যায়। আর নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার করা হলে তাদের আমরা আইনি সহায়তা দেব।”
মোথাবাড়ির ঘটনা নিয়ে কালিয়াচক ২ ব্লকের যুব কংগ্রেস সভাপতি আক্রারুল জামান বলেন, “আমরা কংগ্রেস কর্মীরা খুব আতঙ্কিত। আজকে মোথাবাড়িতে যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তা চক্রান্ত। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। তেমনই কংগ্রেস কর্মীদের ভোট চাওয়ার অধিকারও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমন একটা পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যাতে আমরা লুকিয়ে থাকতে বাধ্য থাকি। তৃণমূল ও বিজেপি আঁতাত রয়েছে। আমাদের কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।”
কালিয়াচক ২ ব্লকের কংগ্রেস সভাপতি দুলাল শেখ বলেন, “মোথাবাড়িতে কংগ্রেস বরাবরই শক্তিশালী। একুশ সালে এনআরসি-র ভীতি প্রদর্শন করে তৃণমূল জিতেছিল। পঞ্চায়েত নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। এখানে মূল লড়াই বিজেপি ও কংগ্রেসের। তাই, ভীতি প্রদর্শন করে তৃণমূলের দিকে ভোট টানার চেষ্টা চলছে। সমস্ত নাটের গুরু তৃণমূল। বাংলা ছাড়া আর অন্য কোনও রাজ্যে কেন SIR নিয়ে গন্ডগোল হয়নি? এখানে পরিকল্পনা করে বিজেপি ও তৃণমূল এটা করছে। এটা দিদি-মোদীর খেলা।”
