
মুর্শিদাবাদ: বাড়িতে ঢুকে কিশোরীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ। শুধু তাই নয়, বাড়িতে জানালে তার বাবাকে খুন করা হবে বলেও কিশোরীকে হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে প্রথমে বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে কিশোরী। চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ফেরার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হল সে। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, এলাকারই এক যুবক তাদের মেয়েকে ভয় দেখাত। অভিযুক্ত যুবকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃত কিশোরীর বাবা।
মৃত কিশোরীর দশম শ্রেণিতে পড়ত। অভিযুক্ত যুবক অনেকদিন ধরেই তাকে উত্ত্যক্ত করত বলে অভিযোগ। মৃত কিশোরীর বাবা বলেন, “ওই যুবক যে আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত, আমরা জানতাম না। মেয়ে আমাদের কোনওদিন বলেনি।” তিনি জানান, দিন পাঁচেক আগে বাড়িতে কেউ ছিল না। তিনি বাড়িতে ঢোকার সময় গোয়ালঘরের সামনে থেকে মেয়ের চিৎকার শুনতে পান। তিনি সেখানে যেতেই ওই যুবক দৌড়ে পালায়। তখনই কিশোরী তাঁকে সব ঘটনা বলেন।
কিশোরীর বাবা বলেন, “মেয়ে আমাকে বলে, ছেলেটা ৬ মাস আগে থেকে ওকে উত্ত্যক্ত করত। ওর সঙ্গে মেলামেশা করতে বলত। মেয়ে না বলে দেয়। ছেলেটা তখন বলে, তোর বাবা মাঠে কাজে যায়। তাকে কুপিয়ে খুন করে রেখে আসব। মেয়ে ভয়ে আমাদের কিছু বলেনি।” পাঁচদিন আগের ওই ঘটনার পর কিশোরীর বিষ খেয়ে নেয়। বিষয়টা বুঝতে পেরে বাড়ির লোক তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তিনদিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে কিশোরী।
মৃতের বাবা বলেন, “আমি মেয়েকে অনেক বোঝাই। কিন্তু, গতকাল ও আমাকে দুটো পেন কিনে আনতে বলে। আমি দোকানে যাই। ওর মা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিল। সেই সময়ই মেয়ে গলায় দড়ি দেয়।” বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বারবার বলতে থাকেন, মেয়ে তাঁকে আগে জানালে ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতেন। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “আমার দুই ছেলে, এক মেয়ে। আমার একমাত্র মেয়েকে ছেলেটা কেড়ে নিল আমাদের কাছ থেকে। ওর আমি কঠোর শাস্তি চাই।” ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।