
মুর্শিদাবাদ: মনিরুল ইসলাম- শাসকদলের ফরাক্কার বিধায়ক। গত কয়েকদিনে তাঁর নাম শিরোনামে। বিডিও অফিসে ঢুকে ভাঙচুর, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেই এফআইআর-এর হুঁশিয়ারি-এই অভিযোগে তিনি এখন চর্চিত। খোদ জাতীয় নির্বাচন কমিশন তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। তবুও বেহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি! কিন্তু কে এই মনিরুল ইসলাম, কীভাবে তাঁর এতটাই দাপট?
মনিরুল ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয় এর আগে তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান বিড়ি মহল্লা এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম। বিড়ি পাতা সংক্রান্ত ব্যবসায় করেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী হন মনিরুল ইসলাম। একুশের বিধানসভার পূর্বে ফারাক্কায় তৃণমূলের কোন্দল ছিল চরমে। সেই সময় কাকে পাঠাতে করবে ভেবে পাচ্ছিল না দল।
ফরাক্কায় স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করলে কোন্দলে হেরে যাওয়া সম্ভাবনা ছিল। সেই সময় এক পুলিশ আধিকারিক ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলামের নামের প্রস্তাব দেয়। ব্যবসায়ী হওয়ার সুবাদে ও ফরাক্কার কোন্দল যাতে না বাড়ে সেই কারণে সামশেরগঞ্জ বিধানসভার এলাকার বাসিন্দা একজন বিড়ি ব্যবসায়ীকে টিকিট দেয় তৃণমূল। মনিরুল ইসলামের দাদা কাউসার আলি তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
আপাতত দুটি নামই বিতর্কে জড়িয়েছে। মনিরুল ইসলাম ২০২২ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া’র একটি রুট মার্চ অংশগ্রহণ করে ও সভায় বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও ২০২৫ সালে ওয়াকফ বিরোধী আন্দোলনের নামে যে হিংসা শুরু হয় সেই হিংসায় স্থানীয় বাসিন্দারা মনিরুল ইসলামের দাদার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
সর্বোপরি তিনি এখন নির্বাচন কমিশনের নজরে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার মধ্যে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই ডেডলাইন পার হয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, তাদের কাছে কোনও অভিযোগ যায়নি এখনও। প্রশাসন কোনও এফআইআর না করলেও, বিজেপি এবার মনিরুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। পাল্টা বিজেপির ঘাড়ে দায় চাপিয়েছেন ফরাক্কার বিধায়ক।