AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Mamata Banerjee: ‘কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না’, বেলডাঙায় উত্তেজনায় কাকে নিশানা করলেন মমতা?

Mamata Banerjee on Beldanga protest: মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "সম্পূর্ণ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে উনি কী চাইছেন? পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা লাগানোর প্রক্রিয়া চলছে? ওখানে হিন্দুরা দাঙ্গা লাগিয়েছে? একজন মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই বিবৃতি দিচ্ছেন।"

Mamata Banerjee: 'কারও প্ররোচনায় পা দেবেন না', বেলডাঙায় উত্তেজনায় কাকে নিশানা করলেন মমতা?
বেলডাঙায় বিক্ষোভ নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Jan 16, 2026 | 6:54 PM
Share

কলকাতা ও বেলডাঙা: ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে শুক্রবার সকাল থেকে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। পথ অবরোধ করা হয়। রেললাইনও অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বেলডাঙায় বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেউ কেউ মদত দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষকে কারও প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় ঝাড়খণ্ডে। সেখানে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, আলাউদ্দিনকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিন সকালে মৃতদেহ গ্রামে পৌঁছতেই বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। বাঁশ ফেলে রেললাইন অবরোধ করা হয়। পুলিশ অবরোধ তুলতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বচসা বাধে। ঘটনাস্থলে আসেন জেলাশাসক নিতিন সিংহানিয়া। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য হেল্পলাইন নম্বর চালুর কথা জানান। এরপর অবরোধ উঠে।

শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে বেলডাঙায় বিক্ষোভ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সংখ্যালঘুদের ক্ষোভটা স্বাভাবিক। আমিও এর জন্য ক্ষুব্ধ। পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে, প্রত্যেকটা কেস আমরা দেখছি। এফআইআর-ও হয়েছে প্রত্যেকটা। আমরা গ্রেফতারও করব। যা করছে তা অন্যায়। আর এটা বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে হচ্ছে। তাহলে বিজেপি বাংলায় কীভাবে বলে, আমাদের ভোট দিন? বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলায় কথা বললেই অত্যাচার করা হচ্ছে, তাহলে বিজেপি আশা করছে, বাংলার মানুষ তাদের পাশে থাকবে।”

এরপরই তিনি বলেন, “বেলডাঙায় আপনারা জানেন কাদের কাদের প্ররোচনা রয়েছে। আমি আর নতুন করে বলতে চাই না। শুক্রবার জুম্মাবার। পবিত্র দিন। আমি তো এটাকে সাপোর্ট করছি না। কিন্তু, মবের মধ্যে ঢুকতে বারণ করো। কারণ, এটা তো আমার হাতে নেই। আমি তো করাইনি ঘটনাটা। জুম্মাবারে এমনিতেও ওরা জমায়েত হয়। প্রোগ্রাম করে। আমি কি তাদের আটকাতে পারি? ক্ষোভটা স্বাভাবিক। যেহেতু হাজার হাজার লোককে নোটিস পাঠাচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। বিজেপি এই দাঙ্গাগুলো লাগাচ্ছে। এবং এর পিছনে কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্সি রয়েছে। আমি সংখ্যালঘু ভাইবোনেদের অনুরোধ করব, আপনারা শান্ত থাকুন। আমাদের উপর ভরসা রাখুন। আমরা তো আপনাদের সঙ্গে আছি।” কারও প্ররোচনায় পা না দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “সম্পূর্ণ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে উনি কী চাইছেন? পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা লাগানোর প্রক্রিয়া চলছে? ওখানে হিন্দুরা দাঙ্গা লাগিয়েছে? একজন মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি এই বিবৃতি দিচ্ছেন। এসআইআর হিন্দুর জন্য হচ্ছে নাকি মুসলিমের জন্য হচ্ছে। ভারতবর্ষ ধর্মশালা নয়। বাংলাদেশ থেকে এসে এখানে নাম ওঠাতে পারে না। দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। এটা আমরা করতে পারি না। আর তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য জিততে হবে। এর জন্য রোহিঙ্গাদের নিতে হবে। বাংলাদেশি জেহাদিদের নিতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “নিজের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”