AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Indo-Bangladesh Border Story: কাঁটাতারের এপারে বাবার নিথর দেহ, চোখে জল নিয়ে ওপার থেকে দেখল মেয়ে

Indo-Bangladesh Border: কাঁটাতারের এপাশে শায়িত ছিল বাবার নিথর দেহ, আর ওপাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন মেয়ে ওমেহার। মাঝখানে লোহার বেড়া। জিরো লাইনে দাঁড়িয়েই চোখের জলে বাবাকে শেষ বিদায় জানালেন তিনি। দীর্ঘশ্বাস আর কান্নার মধ্য দিয়ে শেষ হল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার। সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মতে, এই ছবি শুধু ইসরাফিল বা ওমেহারের নয়; এই ছবি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুই পাড়ে বাস করা শত শত মানুষের নিত্য যন্ত্রণার।

Indo-Bangladesh Border Story: কাঁটাতারের এপারে বাবার নিথর দেহ, চোখে জল নিয়ে ওপার থেকে দেখল মেয়ে
শোকের ছায়া পরিবারে Image Credit: TV 9 Bangla GFX
| Edited By: | Updated on: Jan 03, 2026 | 8:57 PM
Share

নদিয়া: দেশভাগের ক্ষত আর সীমান্তের কঠোর বাস্তবতা যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, তার এক করুণ প্রতিচ্ছবি ধরা পড়ল নদিয়ার চাপড়ায়। দেশভাগ মানচিত্রের সীমানা টেনে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু রক্তের সম্পর্কের টান যে সেই মানচিত্র মানে না, তার প্রমাণ মিলল নদিয়া জেলার চাপড়া থানার হাটখোলা সীমান্তে। দীর্ঘ ২০ বছর পর বাবার সঙ্গে দেখা হল মেয়ের, কিন্তু সেই দেখাই শেষ দেখা। মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে রইল দুর্ভেদ্য কাঁটাতার। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাটখোলা সীমান্ত গ্রামের বাসিন্দা ইসরাফিল হালসানা বহু বছর আগে তাঁর মেয়ে ওমেহারকে বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার কুতুবপুর গ্রামে বিয়ে দিয়েছিলেন। তখন যাতায়াত ছিল সহজ। কিন্তু প্রায় দুই দশক আগে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর পর থেকে সেই যাতায়াত আর সম্ভব ছিল না। আর দেখা হয়নি বাবা-মেয়ের। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ৯০ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় প্রয়াত হন ইসরাফিল হালসানা। এলাকার লোকজন বলছেন, মৃত্যুর আগে বারবার মেয়ের কথা মনে করছিলেন তিনি। সেই আকুতি থেকেই দুই বৃদ্ধের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সীমান্তের ‘জিরো লাইন’-এ।

কাঁটাতারের এপাশে শায়িত ছিল বাবার নিথর দেহ, আর ওপাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন মেয়ে ওমেহার। মাঝখানে লোহার বেড়া। জিরো লাইনে দাঁড়িয়েই চোখের জলে বাবাকে শেষ বিদায় জানালেন তিনি। দীর্ঘশ্বাস আর কান্নার মধ্য দিয়ে শেষ হল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার। সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মতে, এই ছবি শুধু ইসরাফিল বা ওমেহারের নয়; এই ছবি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুই পাড়ে বাস করা শত শত মানুষের নিত্য যন্ত্রণার। কাঁটাতার শুধু জমি ভাগ করেনি, ভাগ করে দিয়েছে আবেগ আর শেষবেলার আত্মিক অধিকারকেও। হাটখোলা সীমান্তে উপস্থিত বিএসএফ জওয়ান ও স্থানীয় বাসিন্দারাও এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। আর তাতেই দেশভাগের সেই পুরোনো ক্ষত যেন বৃহস্পতিবার দুপুরে চাপড়া সীমান্তে আরও একবার টাটকা হয়ে উঠল।

হাতিশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আতিয়ার হালসোনা বলছেন, “মেয়ে একবার বাবাকে শেষবার দেখতে চাইছে এটা জানা মাত্রই আমরা বিএসএফকে জানাই। তখনই বিজিবি-র সঙ্গে একটা ফ্ল্য়াগ মিটিং করে। তারপরই বিএসএফের সহযোগিতাতেই দেহটি জিরো লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।”