
নদিয়া: ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’- এই শব্দবন্ধকে এর আগেও ভোটের আবহে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে দেখেছে বাংলা। এবারের ছাব্বিশের নির্বাচনে আগে এসআইআর- নিয়ে যখন তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি, তখন আরও বেশি আলোচিত হচ্ছে রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প। কারণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বন্ধ করে দেবে— এই রাজনৈতিক ন্যারেটিভই এ বার বিধানসভা ভোটের প্রচারে তৃণমূলের তুরুপের তাস! আর এর ঠিক পাল্টা পথেই হাঁটছে বিজেপি। এবার বঙ্গ বিজেপির বক্তব্য, বিজেপি সরকারে এলে আরও বেশি টাকা লক্ষ্মীর ভান্ডারে দেবে। আর সেক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ কী হতে পারে, তারও আভাস দিয়ে রাখছেন শুভেন্দু-সুকান্তরা।
নদিয়ার চাকদহের সভা থেকে আরও একবার এই বিষয়টি নিয়েই সোচ্চার হলেন শুভেন্দু। তাঁর সাফ বক্তব্য, “লক্ষ্মীর ভান্ডার আমরা আরও ভাল দেব।” সেক্ষেত্রে শুভেন্দু দিলেন পরিসংখ্যান। তাঁর বক্তব্য, ওড়িশায় মহিলাদের বছরে একবার এককালীন মহিলাদের ৫০ হাজার টাকা দেওয়া। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দেন। হরিয়ানার বিজেপি সরকার ২১০০ টাকা দেয়। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস ২০০০ টাকা দেন।
কিন্তু এই পরিসংখ্যান কেন দিলেন শুভেন্দু? যে লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে এতদিন প্রচার চালিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বে। বারাবার বিভিন্ন সভা থেকে এ গুঞ্জন ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করে দেবে, সেই গুঞ্জনে যাতে রাজ্যের মানুষ কান না দেন, তার জন্য এবার থেকে সংকল্প যাত্রার প্রায় প্রত্যেকটি সভা থেকেই এই একই বার্তা দিতে শোনা যাচ্ছেন সুকান্ত-শুভেন্দুদের।
বলাইবাহুল্য, গত মাসে তিন দিনের কলকাতাকেন্দ্রিক বঙ্গ সফরে এসে সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়টি আরও ভাল করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট করে দেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার তৈরি হওয়ার পরেও এখনকার বর্তমান সরকার যে সমস্ত প্রকল্প চালাচ্ছে তার মধ্যে একটা স্কিমও বন্ধ হবে না। আর তাছাড়া আমাদের ইস্তেহারে আমরা যে সমস্ত প্রকল্পের কথা বলব তা বাস্তবের রূপ পাবে। এটা গোটা দেশেই আমাদের ট্র্যাক রেকর্ড।”