AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Nadia: মহুয়ার অভিযোগ পেয়েই নয়ডা ছুটল নদিয়ার পুলিশ, তারপর যা হল…

Mahua Moitra: কোতোয়ালি থানার আইসি-র বক্তব্য়, "নয়ডার পুলিশ আমাদের টিমকে জানিয়েছে, পলিটিক্যাল হাই লেভেল ইস্যু রয়েছে। আমরা আপনাদের সাহায্য করতে পারব না। ওখানকার বিজেপির মিডিয়া সেলের কোনও একটা পদে রয়েছেন অভিযুক্ত।" আইসি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।

Nadia: মহুয়ার অভিযোগ পেয়েই নয়ডা ছুটল নদিয়ার পুলিশ, তারপর যা হল...
মহুয়া মৈত্রের অভিযোগ নিয়ে কী বললেন কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানার আইসি অমলেন্দু বিশ্বাস?Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Feb 11, 2026 | 4:09 PM
Share

কৃষ্ণনগর: তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো চ্যাট ছড়ানোর অভিযোগ। কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ পেয়েই উত্তর প্রদেশের নয়ডায় ছুটল নদিয়ার পুলিশ। তবে অভিযুক্তকে ধরতে গিয়ে ‘বাধা’-র মুখে পড়তে হল তাদের। নদিয়ার পুলিশের দাবি, অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য করে নয়ডার পুলিশ। শুধু তাই নয়, জেলা পুলিশের টিমকে সেখানকার থানায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়েছে। জেলা পুলিশের এই ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।

সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে এক নামকরা ভোটকুশলীর ভুয়ো চ্যাট সোশ্য়াল মিডিয়ায় পোস্টের অভিযোগ ওঠে সুরজিৎ দাশগুপ্ত নামে নয়ডার এক বাসিন্দা বিরুদ্ধে। এই নিয়ে কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তৃণমূল সাংসদ। পুলিশ জানিয়েছে, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিজিটাল ফরেনসিক বিভাগ ওই চ্যাট পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে যে ওই চ্যাটটি সম্পূর্ণ ভুয়ো ও মনগড়া। এরপরই অভিযুক্ত সুরজিৎ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি উপস্থিত হননি। এমনকি পুলিশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করেননি বলে অভিযোগ।

এরপর আদালতের দ্বারস্থ হয় পুলিশ। আদালত সুরজিৎ দাশগুপ্তর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার চার সদস্যের একটি বিশেষ দল নয়ডা-য় অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য যায়। সেখানে ওই দলকে পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ, ফেজ-টু থানা এলাকার চৌকি নম্বর ১১০-র অন্তর্গত পুলিশ নদিয়া পুলিশের বিশেষ টিমকে ‘বাধা’ দেয়। অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য করে। কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখা হয় ওই দলকে।

কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানার আইসি অমলেন্দু বিশ্বাস বলেন, “ওই ব্যক্তি ভুয়ো চ্যাট টুইট করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ দায়ের করি আমরা। ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁকে নোটিস পাঠিয়ে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু, তিনি কোনও জবাব দেননি। তখন আমরা আদালতের দ্বারস্থ হই। আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। তখন আমাদের টিম নয়ডায় যায়। বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়। স্থানীয় পুলিশ সুরজিৎ দাশগুপ্তকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর আমাদের টিমকে থানায় এনে বসিয়ে রাখা হয়।” আইসি জানান, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে জেলা পুলিশের বিশেষ টিম এখনও নয়ডায় রয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য়, “নয়ডার পুলিশ আমাদের টিমকে জানিয়েছে, পলিটিক্যাল হাই লেভেল ইস্যু রয়েছে। আমরা আপনাদের সাহায্য করতে পারব না। ওখানকার বিজেপির মিডিয়া সেলের কোনও একটা পদে রয়েছেন অভিযুক্ত।” আইসি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।

তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তা নিয়ে কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির উত্তর নদিয়া সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, “নয়ডা থানার পুলিশ নাকি সুরজিৎবাবুকে গ্রেফতার করতে দেয়নি। তাঁকে পালাতে সাহায্য করেছে। কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার আইসি বলছেন, তাঁদের থানা থেকে যে ৪ জনের টিম গিয়েছিল, তাদের আটক করে থানায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয়েছিল। এটা প্রশাসনিক বিষয়। প্রশাসনই এর উত্তর দিতে পারবে। কিন্তু, আমার প্রশ্ন, মহুয়ার অভিযোগ নিয়ে পুলিশ অতিসক্রিয়, আর আমি যখন অভিযোগ করেছিলাম তখন পুলিশ কেন পদক্ষেপ করেনি? কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়ে মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য নিয়ে আমি এই কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু, কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। কোতোয়ালি থানার পুলিশের এই বিমাতৃসুলভ আচরণ কেন?”

নদিয়া পুলিশের এই অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। তিনি বলেন, “বাংলার পুলিশ যদি এই সক্রিয়তা মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ও ধর্ষণের মামলার তদন্তে দেখাত, তাহলে বাংলার কন্যারা আজ আরও সুরক্ষিত থাকত।”