Nadia: দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার ‘অপরাধে’ জেলে শিক্ষক!

চক্ষুদানের সমস্ত কাগজপত্রও তাঁর কাছে রয়েছে। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর তাঁর মায়ের কর্নিয়া দান করেছিলেন আমির চাঁদ। আর সেই কর্নিয়ায় ইতিমধ্যেই দৃষ্টি ফিরে পেয়েছেন ৬ জন! অথচ সেই 'অপরাধে'ই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছেন শিক্ষক। আদালত তাঁকে পুলিশি হেফাজতেও পাঠিয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাঁকে কীসের ভিত্তিতে গ্রেফতার করল? 

Nadia:  দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার অপরাধে জেলে শিক্ষক!
গ্রেফতার শিক্ষক আমির চাঁদ আলিImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী

Feb 10, 2026 | 6:02 PM

নদিয়া: নদিয়ার কোতোয়ালি কেস নম্বর ১৪৪/২৬। আজ এই মামলা গোটা বাংলায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে। মায়ের চক্ষু দান করেছিলেন পেশায় শিক্ষক আমির চাঁদ আলি। কিন্তু গ্রামবাসীরা অভিযোগ তোলেন, তিনি নাকি তাঁর মায়ের চোখ বিক্রি করে দিয়েছে। অথচ চক্ষুদানের সমস্ত কাগজপত্রও তাঁর কাছে রয়েছে। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর তাঁর মায়ের কর্নিয়া দান করেছিলেন আমির চাঁদ। আর সেই কর্নিয়ায় ইতিমধ্যেই দৃষ্টি ফিরে পেয়েছেন কেউ! অথচ সেই ‘অপরাধে’ই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছেন শিক্ষক। আদালত তাঁকে পুলিশি হেফাজতেও পাঠিয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাঁকে কীসের ভিত্তিতে গ্রেফতার করল?

ই শিক্ষকের আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাসের বক্তব্য, ” ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১(২), ৩০৩ (২), সাবসেকশন ৫-এর ধারা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, কোনও সন্তান তাঁর মায়ের চোখ বিক্রি করে দিয়েছে। আর সেই অভিযোগ করলেন প্রতিবেশী।” আইনজীবী জানালেন, দেখা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে ওই শিক্ষকের মা জীবিত থাকা অবস্থাতেই তিনি তাঁর সম্মতি দিয়ে গিয়েছেন। মৃত্যুর পর তাঁর চক্ষু  যাতে দান করা হয়। যাতে সমাজের আরও ৪-৫ জন দৃষ্টি ফিরে পান। কিন্তু আইনজীবীর কথায়, “এই ভাল কাজটা করতে গিয়েই একই পরিবারের পাঁচ জন গ্রেফতার হয়ে গিয়েছে।”

 ঘটনাটা ঠিক কী ঘটেছে? 

স্কুল শিক্ষক আমির চাঁদ আলি। তিনি একজন সমাজকর্মীও বটে। নদিয়ার কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা। সম্প্রতি তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি তাঁর মায়ের চক্ষু দান করে একটি সংস্থায়। সেই সংস্থা থেকে চক্ষু সংগ্রহ করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে। চক্ষু দানের সমস্ত কাগজপত্রও রয়েছে তাঁর কাছে। কিন্তু গ্রামেরই কেউ থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন, তিনি তাঁর মায়ের চোখ বিক্রি করে দিয়েছেন। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে-সহ পরিবারের ৫ সদস্যকে থানায় তুলে নিয়ে যান। কেস দেন। পরে আদালতেও পেশ করা যায়।

কিন্তু এভাবে কি গ্রেফতার করা যায়? কী বলছেন আইনজীবীরা? 

আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” পুলিশ একটা অভিযোগ পেয়েছে। এখানে যা সেকশন রয়েছে, তাতে ৭ বছরের সাজা রয়েছে। ৭ বছরের সাজার মামলায় পুলিশ কখনও সরাসরি গ্রেফতার করতে পারে না। উচিত ছিল নোটিস দিয়ে ডাকার। কিন্তু তা হয়নি, পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করেছে। যেহেতু একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে মামলা, রিপোর্ট আসা জরুরি, ১২ তারিখ সময় দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সেদিন জামিন পাওয়া যাবে।”

কিন্তু কেন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনলেন গ্রামবাসীরা?

আমির চাঁদেরই এক বয়স্ক প্রতিবেশী বলেন, “আমির চাঁদের বাড়ির ওপর দিয়ে গ্রামের যশোর আলি বাড়ির রাস্তা দিতে হবে। আমির চাঁদ সেটা দিতে চাইছিলেন না। বহু দিন আগে থেকেই এই নিয়ে অশান্তি চলছিল।”

পুলিশের এই ভূমিকা কি সদর্থক?

মানবাধিকার কর্মী রঞ্জিত শূর বলেন, “পুলিশ যে এই কাজটা করল, তাতে অঙ্গদান আন্দোলনে ও চক্ষুদান আন্দোলনে ভয়ঙ্কর ক্ষতি হল। মানুষ তো ভয় পাবে। মানুষ কি এখন চক্ষুদানের জন্য আগে পুলিশের অনুমতি নেবে? পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্তা বললেন নিরাপত্তার কারণে তাঁকে জেলে পাঠিয়েছি। এমনই তিনি বলেছেন, আমি শুনলাম। তাহলে প্রশ্ন, আজ কি তাহলে জেলই সবথেকে বেশি নিরাপদ? স্বাস্থ্য়মন্ত্রী, স্বাস্থ্যদফতর, সমাজকল্যাণ দফতরের কী ভূমিকা?” তাঁর বক্তব্য, পুলিশ কিছু ধারা দিয়ে তাঁকে আদালতে পেশ করল, বিচারক তো বিচার করবেন, এই ধারা এক্ষেত্রে কার্যকরী হয় কিনা!”