Nadia: মায়ের চোখ বিক্রি করেননি আমিরচাঁদ, মেনে নিলেন ভাই, মুখ পুড়ল পুলিশের
জানা যায়, ২০২৪ সালে ওই শিক্ষকের মা জীবিত থাকা অবস্থাতেই সম্মতি দিয়ে গিয়েছিলেন, মৃত্যুর পর তাঁর চক্ষু যাতে দান করা হয়। যাতে সমাজের আরও ৪-৫ জন দৃষ্টি ফিরে পান। কিন্তু এই ভাল কাজটা করতে গিয়েই একই পরিবারের পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

নদিয়া: মায়ের মৃত্যুর পর চোখ বিক্রি করে দিয়েছেন, এমন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল সমাজকর্মী আমিরচাঁদ আলি। তড়িঘড়ি তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। জেলে যেতে হয় আমিরচাঁদকে। বিতর্কের ঝড় ওঠে। মায়ের চক্ষু দান করেছেন বলে দাবি করলেও, আমিরচাঁদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন গ্রামবাসীরা। চক্ষুদানের সমস্ত কাগজপত্র সামনে আনা সত্ত্বেও আমিরচাঁদকে এভাবে জেলে ঢোকানোয় পুলিশের ভূমিকা বিতর্ক শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত জামিন পেলেন সেই আমিরচাঁদ।
স্কুল শিক্ষক তথা সমাজকর্মী আমিরচাঁদ আলি নদিয়ার কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা। সম্প্রতি তাঁর মায়ের মৃত্যুর পর তিনি তাঁর মায়ের চক্ষুদান করেন একটি সংস্থায়। সেই সংস্থা থেকে চক্ষু সংগ্রহ করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ। চক্ষুদানের সমস্ত কাগজপত্রও রয়েছে তাঁর কাছে। কিন্তু গ্রামেরই কেউ থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন যে আমির তাঁর মায়ের চোখ বিক্রি করে দিয়েছেন। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে ও তাঁর পরিবারের ৪ সদস্যকে থানায় তুলে নিয়ে যান। পরে আদালতেও পেশ করা হলে জেল হয় আমিরের। চক্ষু বিক্রির অভিযোগ তুলেছিলেন আমির আলির ভাইও।
আজ, বৃহস্পতিবার আমির আলিকে আদালতে তোলা হয়। সেখানে তাঁর জামিনের আর্জিতে আপত্তি জানাননি কেউ। এমনকী তাঁর ভাই, যিনি অভিযোগ করেছিলেন, তিনিও জানান, তাঁর কোনও আপত্তি নেই। দাদা ভাল কাজ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি স্বীকার করেন, তাঁকে ভুল বোঝানো হয়েছিল।
মানবাধিকার কর্মী রঞ্জিত শূর এই ঘটনায় বলেছিলেন, “পুলিশ যে এই কাজটা করল, তাতে অঙ্গদান আন্দোলনে ও চক্ষুদান আন্দোলনে ভয়ঙ্কর ক্ষতি হল। মানুষ তো ভয় পাবে। মানুষ কি এখন চক্ষুদানের জন্য আগে পুলিশের অনুমতি নেবে?” আর এবার আদালতেই ধাক্কা খেল পুলিশ।
