‘মহান নেতা শিবেন্দু শেখর’, মালদহে প্রধানমন্ত্রীর মুখে TMC সাংসদ সুখেন্দু শেখরের বাবার নাম কেন?

Shibendu Shekhar Roy: পুত্রবধূ স্বপ্না রায় বলেন, "১৯৮০ সালে আমার বিয়ে হয়। তারপর থেকে আমি ওঁকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আমি খুব গর্ববোধ করি। মানুষ তো ভুলে গিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মনে রেখেছেন দেখে ভাল লাগল।" শিবেন্দু শেখরের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাঁর নাতি স্বর্ণেন্দু শেখর রায়। তিনিও এই ঘটনায় আপ্লুত।

মহান নেতা শিবেন্দু শেখর, মালদহে প্রধানমন্ত্রীর মুখে TMC সাংসদ সুখেন্দু শেখরের বাবার নাম কেন?
Image Credit source: PTI

| Edited By: তন্নিষ্ঠা ভাণ্ডারী

Jan 17, 2026 | 8:26 PM

মালদহ: ‘সবার প্রথমে বাংলার মহান নেতা শিবেন্দু শেখর রায়কে শ্রদ্ধাসহ প্রণাম জানাই’, শাসক দলকে আক্রমণ করার আগে কর জোড়ে এ কথা বলে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “ওঁর চেষ্টাতেই আজ মালদহের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ আছে।” এরপর ধাপে ধাপে রাজনৈতিক আক্রমণে শান দিতে শুরু করেন মোদী। শাসকদলকে কাঠগড়ায় তুলে বুঝিয়ে দেন, বিজেপি বাংলার উন্নয়নের জন্য কতটা সচেষ্ট। কিন্তু শুরুতেই যাঁর কথা বললেন, কে সেই শিবেন্দু শেখর রায়?

তৃণমূলের রাজ্য়সভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের বাবা শিবেন্দু শেখর রায়। তৃণমূল সাংসদের বাবার নাম হঠাৎ মোদীর মুখে কেন? আসলে, শিবেন্দু শেখর রায় ছিলেন মালদহ জেলার একজন প্রখ্যাত হিন্দু মহাসভা নেতা এবং ভারতের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী। জানা যায়, শিবেন্দু শেখর রায়ের হাত ধরেই মালদহ ফেরানো হয়েছিল ভারতে। পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়ে যেতে পারত মালদহ। কিন্তু দেশভাগের সময় মালদহ জেলাকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত রাখতে শিবেন্দু শেখর রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে জানা যায়।

ইতিহাস বলে, মালদহের জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এই শিবেন্দু শেখর রায়। ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সক্রিয়ভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি। মালদহ জেলা যাতে ভারতের অংশ হয়ে থাকে, সে ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলেন। তিনি হিন্দু মহাসভার আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং অবিভক্ত বাংলায় হিন্দুদের স্বার্থরক্ষায় সোচ্চার ছিলেন।

আজ মালদবাসীর কাছে তিনি স্মৃতির অতলে হারিয়ে গেলও প্রধানমন্ত্রী এদিন নতুন করে তুলে আনলেন তাঁর কথা। প্রধানমন্ত্রীর মুখে এ কথা শুনে আবেগে ভাসল তাঁর পরিবার।

পুত্রবধূ (ছোট ছেলে শরদিন্দু শেখর রায়ের স্ত্রী) স্বপ্না রায় বলেন, “১৯৮০ সালে আমার বিয়ে হয়। তারপর থেকে আমি ওঁকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আমি খুব গর্ববোধ করি। মানুষ তো ভুলে গিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মনে রেখেছেন দেখে ভাল লাগল।” শিবেন্দু শেখরের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাঁর নাতি স্বর্ণেন্দু শেখর রায়। তিনি বলেন, “দেশভাগের সময় দাদুই প্রথম স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন। তারপর মালদহকে ফেরানোর লড়াই শুরু হয়। অল ইন্ডিয়া রেডিও-তে ঘোষণা করা হয়েছিল যে মালদহ ভারতের অংশই থাকছে।”

হিন্দু মহাসভার নেতা শিবেন্দু শেখর ছিলেন পেশায় আইনজীনী। তাঁর মোট পাঁচ সন্তান। তার মধ্যে সক্রিয় রাজনীতি করেন শুধুমাত্র সুখেন্দু শেখরই। ছোট ছেলে, প্রয়াত শরদিন্দুর ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা ছিল।

পুত্রবধূর হাতে শিবেন্দু শেখর রায়ের ছবি

উল্লেখ্য, শিবেন্দু শেখরের ছেলে সুখেন্দু শেখর রায় তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন কংগ্রেসের হাত ধরে। ১৯৬৮ সাল থেকে রাজনীতি করেন তিনি। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলের সদস্য হন। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ।