
বারাসত: এসআইআর শুনানিতে এসে অসুস্থ, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ রক্ষা হল না। রাস্তাতেই সবশেষ। মৃত্যু ৪০ বছরের রমজান আলির। বাড়ি রোহন্ডা চন্ডীগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের চন্ডীগড়ে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বারাসাত দুই ব্লক অফিসে মায়ের সঙ্গে শুনানিতে এসেছিলেন। বিডিও অফিসে বসে থাকার সময়ই আচমকা মাটিতে পড়ে যান। শুনানিতে আশা অন্যরাই দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করেন। বিডিও-র গাড়ি করে দ্রুত তাঁকে বাগবান্দা সাইবেরিয়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে দেন।
ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে। পরিবারের বাসিন্দারা বলছেন শুনানিতে ডাক আসার পর থেকেই চিন্তায় ছিলেন। তাতেই শরীর খারাপ হয়ে এই পরিণতি। এক আত্মীয় বলছেন, “ওদের হিয়ারিংয়ে ডেকেছিল শুনেছি। তারপর তো ওরা গিয়েছিল। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই ও অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপর তো শুনছি মারা গিয়েছে। ওদের কাছে সব ডকুমেন্টই আছে। কিন্তু হিয়ারিংয়ে ডাক পাওয়ার পর থেকে খুবই চিন্তায় ছিল। এখন এদের পরিবারটার কী হবে বুঝতেই পারছি না।”
প্রতিবেশী আজিজুল আলি বলছেন, “ও তো আমার সমবয়সী। আমরা শুনলাম হিয়ারিংয়ে যাওয়ার পরই ওর বুকে যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। শুনানি কেন্দ্রে আসা লোকজনই ওকে উদ্ধার করে কাছেই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। কিন্তু ততক্ষণে ও এক্সপায়ার করে গিয়েছে।”
ছেলেকে হারিয়ে চোখে জল নিয়ে মৃতের মা বলছেন, “খালি বলছিল আমাদের কোথায় রাখবে মা। আমাকে জড়িয়ে ধরে একাধিকবার কাঁদে। আমি বলি কিছু হবে না তুই চল। আমার সঙ্গেই হিয়ারিংয়ে গিয়েছিল। ওখানেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়ে।”