
বিরাটি: এখনও দগদগে আনন্দপুরের স্মৃতি, এরইমধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি রেল স্টেশন। স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন একটি বই ও স্টেশনারি দোকানে প্রথমে আগুন লাগে। তাতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় স্টেশন চত্বরে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানগুলিতেও। এলাকার লোকজন বলছেন, শনিবার সন্ধ্যা নামার কিছু সময় পড়ে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পাশেই ওই বই-খাতার দোকানে প্রথম ধোঁয়া দেখা যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখা যায় দাউদাউ তরে জ্বলে গিয়েছে গোটা দোকান।
দোকানে প্রচুর পরিমাণে কাগজ, খাতা এবং প্লাস্টিক জাতীয় দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পার্শ্ববর্তী দুই-তিনটি দোকানেও আগুন থাবা বসায়। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন আর কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা প্ল্যাটফর্ম চত্বর। যার জেরেই নিত্যযাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়ায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একটি ইঞ্জিন। তবে প্ল্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি হওয়ায় শুরুতে আগুন নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয় দমকলকর্মীদের। দমকলের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং রেল কর্মীরাও বালতি করে জল ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে হাত লাগান। প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
অগ্নিকাণ্ডের জেরে বইয়ের দোকানটি পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। মাথায় হাত মালিকের। তিনি বলছেন, কয়েক লক্ষ টাকার মালপত্র ছিল। সবই পুড়ে গিয়েছে। আশপাশের দোকানগুলিও কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর এই যে, স্টেশনের ওভারহেড তারে আগুন পৌঁছায়নি। ফলে ট্রেন চলাচলের উপর কোনও ছাপ পড়েনি। দমকলের প্রাথমিক অনুমান শর্ট সার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। তবে তদন্ত চলছে। এদিকে, স্টেশনের নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকায় দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হোক।