AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Basirhat: বাড়িতে ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রী, ডাস্টবিনে কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না পেয়েও ফেরত দিলেন নির্মল বন্ধু

Basirhat sanitation worker: গয়না ফেরত দিয়ে নির্মল বন্ধু দাউদ আলি শেখ বললেন, "আমি ভেবেছিলাম ইমিটেশনের গয়না। তারপর শুনলাম ওই দিদি কান্নাকাটি করছেন। এবং গয়নাগুলি সোনার। সঙ্গে সঙ্গে ফেরত দিলাম।" তিনি বুঝিয়ে দিলেন, গয়না ফেরত দিয়ে কর্তব্যটুকু করেছেন। আশপাশের সবাই যখন তাঁর প্রশংসা করে চলেছেন, তখন ফের বাড়ি বাড়ি নোংরা সংগ্রহে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন দাউদ আলি।

Basirhat: বাড়িতে ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রী, ডাস্টবিনে কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না পেয়েও ফেরত দিলেন নির্মল বন্ধু
কী বললেন নির্মল বন্ধু দাউদ আলি শেখ?Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Mar 08, 2026 | 3:03 PM
Share

বসিরহাট: বাড়িতে ক্যানসার আক্রান্ত স্ত্রী। তিনি বসিরহাট পৌরসভার একজন পৌরকর্মী। নির্মল বন্ধু। স্ত্রীর চিকিৎসা, সংসার চালাতে হিমশিম খান। এত টানাটানির মধ্যেও তাঁর সততায় দাগ পড়তে দিলেন না বসিরহাট পৌরসভার নির্মল বন্ধু দাউদ আলি শেখ। ডাস্টবিন থেকে কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না কুড়িয়ে পেয়েও ফেরত দিলেন গৃহবধূকে।

উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে থাকেন গৃহবধূ তাপসী বিশ্বাস। শনিবার সকালে নির্মল বন্ধু দাউদ আলি শেখ তাঁর বাড়িতে নোংরা আনতে যান। সেই সময় ওই গৃহবধূর মা ভুল করে নোংরার সঙ্গে কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না ফেলে দেন। দাউদ আলি সেই নোংরা বসিরহাট পৌরসভার শুকনো বর্জ্য পৃথকীকরণ কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে ডাস্টবিন খুলতে দেখা যায় প্রায় ৩ ভরি সোনার অলংকার রয়েছে। ইমিটেশনের গয়না ভেবে সেগুলি আলাদা করে রাখেন দাউদ আলি।

এদিকে, তাপসী বিশ্বাস সোনার গয়না হারিয়ে ভেঙে পড়েন। খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পারেন নির্মল বন্ধু দাউদ আলি। তিনি গৃহবধূর বাড়িতে খবর দেন। তারপরই তাপসী বিশ্বাস বর্জ্য পৃথকীকরণ কেন্দ্রে যান। গয়নাগুলি চিহ্নিত করেন। তারপরই তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় সোনার গয়নাগুলি।

কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না ফেরত পেয়ে স্বস্তির শ্বাস নেন ওই গৃহবধূ। নির্মল বন্ধু দাউদ আলিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা বাইরে গিয়েছিলাম। সোনার গয়না চুরির ভয়ে ক্যারিব্যাগে রেখে গিয়েছিলাম। মা জানত না। নোংরার সঙ্গে ওই ক্যারিব্যাগও ফেলে দিয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম, গয়না ফেরত পাব না। তবে এখনও সততার মানবিক মুখ আছে, তা দেখে আনন্দিত হলাম। আমি গয়না ফেরত পেয়ে খুশি। শুনেছি, তাঁর স্ত্রী অসুস্থ। তাঁর সুস্থতা কামনা করি। যতটুকু পারি পাশে দাঁড়াব।” বসিরহাট পৌরসভার নির্মল বন্ধু প্রকল্পের আধিকারিক তাপসী রায়চৌধুরীও দাউদ আলির প্রশংসা করলেন। 

সবাই যখন তাঁর প্রশংসা করছেন তখনও নির্বিকার দাউদ আলি শেখ। তিনি কোনও প্রশংসাযোগ্য কাজ করেছেন বলে মনে করেন না। বললেন, “আমি ভেবেছিলাম ইমিটেশনের গয়না। তারপর শুনলাম ওই দিদি কান্নাকাটি করছেন। এবং গয়নাগুলি সোনার। সঙ্গে সঙ্গে ফেরত দিলাম।” তিনি বুঝিয়ে দিলেন, গয়না ফেরত দিয়ে কর্তব্যটুকু করেছেন। আশপাশের সবাই যখন তাঁর প্রশংসা করে চলেছেন, তখন ফের বাড়ি বাড়ি নোংরা সংগ্রহে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন দাউদ আলি।