
উত্তর ২৪ পরগনা: উঠোনে বাঁধা ছাগল, যত্রতত্র গজিয়ে ঘাস-লতা-পাতা! পড়ে রয়েছে বিড়ি, সিগারেট, ঘুটকার প্যাকেট। এমনকি মদের বোতলও। জলের প্ল্যান্ট তো রয়েছে, কিন্তু তা ভেঙেচুরে একাকার! মাকড়সার জাল, ঘুঘুর বাসা, পলেস্তরা উঠে পড়া বিল্ডিংয়ের অন্ধকারে ঝি ঝি পোকার ডাক। এটা কোনও পরিত্যক্ত বাড়ির বর্ণনা নয়। সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছবি! নাহ, এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অব্যবস্থার বর্ণনা দিতে এই প্রতিবেদন, বরং তার থেকেও ভয়ঙ্কর অভিযোগ। কারণ এই প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে ড্রেন থেকে উদ্ধার গুচ্ছ গুচ্ছ ওষুধ। এই খবর করতে গিয়েই উঠে আসে বাদুড়িয়ার মাসিয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিপন্নতার ছবি! কিন্তু কোথা থেকে এল এত গুচ্ছ গুচ্ছ ওষুধ?
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে এখান থেকে ওষুধ দেওয়া হয়নি। সেই সব ওষুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওষুধ কীভাবে মেয়াদ উত্তীর্ণ হল? এক গ্রামবাসী বললেন, “ওষুধটা দেবেন কে রোগীকে? ডাক্তার তো? এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তো ডাক্তারই আসেন না। স্বাভাবিকভাবেই রোগীদের ওষুধ দেওয়ার প্রশ্ন নেই।”
সিরাপ, ট্যাবলেট, ক্যাপসুল-সহ প্রচুর ওষুধ ড্রেনের মধ্যে পড়ে রয়েছে। এলাকাবাসীদেরই একজন বললেন, ” বাচ্চারা খেলা করে এখানে। কখনও তো তারা সেই ওষুধের পাতা তুলে খেলতে খেলতে খেয়েও ফেলতে পারে।”
যদিও হাসপাতালের এক নার্সের বক্তব্য, “ওষুধগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। একটা পিট তৈরি করা রয়েছে। ওষুধগুলো সেখানেই ফেলা হয়। মেডিসিনের স্টোররুমে উইপোকা রয়েছে। মেট্রোজিল ট্যাবলেটগুলোও খারাপ হয়ে গিয়েছে।” কিন্তু পিট কেন উন্মুক্ত? কেন সেখানে চিকিৎসক নেই? কেন নিয়ম না মেনে ওষুধ এভাবে ফেলা হল? এই সব প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারেননি নার্স।
যদিও এই বিষয়ে বাদুড়িয়ার BMOH বলেছেন, “আমি বিষয়টা জানি না দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব ।ডাক্তারের অভাব আছে তাই নিয়মিত ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার থাকে না।”