
নোয়াপাড়া: ঘোষণা হয়ে গিয়েছে পুরো প্রার্থী তালিকা। টিকিট পাননি এক ঝাঁক বিধায়ক। তা নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভের আগুন ক্রমেই বাড়ছে। উপরতলা থেকে জল ঢালার চেষ্টা হলেও বিদ্রোহ যে বড্ড ছোঁয়াচে তাই যেন বারবার প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। আর তৃণমূলে থাকতে চান না নোয়াপাড়ার প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং। তাঁর ক্ষোভ নোয়াপাড়ার এবারের তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে নিয়ে। তাঁর সাফ কথা, বীজপুর থেকে ত্রিনাঙ্কুরকে নিয়ে এসে প্রার্থী করেছে দল। মানুষ ক্ষেপে গিয়েছে। দলের লোকেরাও ক্ষেপে গিয়েছে। খানিক ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, চারবারের বিধায়ক মঞ্জু বসুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপমান নোয়াপাড়ার মানুষ মেনে নেবে না। রাজ্যে পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই নোয়াপাড়াতেও পরিবর্তন হবে বলে মত তাঁর। যদিও এই মঞ্জু আবার আগেই বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন। টিকিট না পেয়ে তাঁর সাফ কথা, টাকা না দেওয়ার জন্যই তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি।
এখন একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুনীল বলছেন, “অত দূর থেকে কেন তৃণাঙ্কুরকে আনা হল? কেন এলাকা থেকে কাউকে প্রার্থী করা হল না? কেন মঞ্জু বসুকে প্রার্থী করা হল না? কেন মলয় ঘোষকে প্রার্থী করা হল না? অনেক লোক ছিল যাঁরা প্রার্থী হওয়ার যোগ্য। এখনও নোয়াপাড়ার মানুষ বলছে অত দূরের প্রার্থীকে আমরা ভোট দেব না।”
প্রসঙ্গত, গত বছর শেষের দিকেও সুনীলের দলবদল নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছিল। তিনি আবার অর্জুন সিংয়ের ভগ্নিপতিও বটে। গত বছরের অক্টোবরে নোয়াপাড়ার গারুলিয়াতে রাজনৈতিক সভা থেকে ফেরার পথে খোদ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎও করতে দেখা যায়। সুনীলকে পদ্ম ফুল উপহার দেন শুভেন্দু। হাসি মুখে জড়িয়েও ধরেছিলেন। পাল্টা শুভেন্দুর পায়ে হাত দিয়ে প্রণামও করতে দেখা যায় সুনীলকে।
এখন যদিও দলের দলের প্রতি একরাশ অভিমান ঝরে পড়ছে সুনীলের গলায়। বললেন, “জয়েন করার পর থেকে তৃণমূল আমাকে বিশ্বাস করে না। দল যদি বিশ্বাস না করে তাহলে ওই দলে থাকা উচিত? আমার মনে হয়েছে যেখানে বিশ্বাস নেই সেখানে থাকার দরকার নেই।”