Asansol: অবৈধ বালি উত্তোলনে ভেঙেছে জল প্রকল্পের সেতু, ৬ মাস পরও ৫৬টি গ্রামে জল সংকট
Illegal sand mining in Asansol: গত বছরের ২৩ জুলাই বার্নপুরে কালাঝরিয়া পাম্পিং স্টেশনে দামোদরের উপর সেতুটি ভেঙে পড়ে। তারপর থেকে আসানসোল দক্ষিণ, জামুরিয়া, রানিগঞ্জের গ্রামীণ এলাকায় পানীয় জলের সংকট শুরু হয়। আসানসোল পৌরনিগমের কালাঝরিয়া পাম্পিং স্টেশনের প্রধান পাইপ লাইনটি লোহার সেতুর মাধ্যমে নদী থেকে পাম্পিং স্টেশনের সংযোগ ছিল। সেটাই ভেঙে পড়ে।

আসানসোল: ভেঙে পড়ে আছে পাইপ। দামোদরের উপর জল প্রকল্পের সেতু বিপজ্জনক অবস্থায়। সেতুর নিচের অংশ থেকে অবৈধভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে বালি। একদিকে বিপজ্জনক অবস্থায় ভেঙে থাকা জল প্রকল্পের সেতু, অন্যদিকে তীব্র জল সংকট। আসানসোলে আবারও ভেঙে পড়তে পারে অন্য সেতুগুলি। রাজ্য সরকারের একাংশের বিরুদ্ধে চুরি, অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।
মাস ছয়েক আগে হিরাপুর থানার অন্তর্গত কালাঝরিয়া পাম্পিং স্টেশনের দামোদর নদীর উপর ব্রিজ ভেঙে পড়ে। ওই ব্রিজের উপর ছিল পিএইচি-র আসানসোল শহরে জল সরবরাহের প্রধান পাইপ লাইন। এই ব্রিজ ভেঙে পড়ার ফলে পানীয় জল সরবরাহ বিঘ্নিত হয় শিল্পাঞ্চলজুড়ে। শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। যদিও পিএইচই ও আসানসোল পৌরনিগমের পক্ষ থেকে দ্রুত মেরামতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালের অভিযোগ, এতদিন অবহেলায় ফেলে রেখেছে এই গুরুত্বপূর্ণ জল সংযোগ ব্যবস্থা। এর জন্য দায়ী রাজ্য এবং আসানসোল পৌরনিগম।

ভেঙে পড়েছে জলের পাইপ লাইনের সেতু
ঘটনার ৫ মাস পর দামোদরের উপর ভেঙে যাওয়া পাইপ লাইনের সেতু দেখে গিয়েছেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। কলকাতা থেকে চারজনের বিশেষজ্ঞ দল বার্নপুরে দামোদর নদের উপর ওই ভেঙে পড়া জল প্রকল্প দেখতে এসেছিলেন এক মাস আগে। পূর্ত দফতরের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শুধু পরিদর্শন নয়, মাটি, বালি, ও পাথর পরীক্ষা করেন। তারপর অবশ্য আর কিছু হয়নি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৩ জুলাই বার্নপুরে কালাঝরিয়া পাম্পিং স্টেশনে দামোদরের উপর সেতুটি ভেঙে পড়ে। তারপর থেকে আসানসোল দক্ষিণ, জামুরিয়া, রানিগঞ্জের গ্রামীণ এলাকায় ৫৬টি গ্রামে পানীয় জলের সংকট শুরু হয়। আসানসোল পৌরনিগমের কালাঝরিয়া পাম্পিং স্টেশনের প্রধান পাইপ লাইনটি লোহার সেতুর মাধ্যমে নদী থেকে পাম্পিং স্টেশনের সংযোগ ছিল। সেটাই ভেঙে পড়ে। ওই পাইপ লাইন দিয়ে দামোদর থেকে জল তুলে সেই জল পরিশুদ্ধ করে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। বর্তমান রাজ্য সরকারের ও পৌরনিগমের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হয় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসানসোল পৌরনিগমের পক্ষ থেকে ওইসব এলাকায় পানীয় জলের ট্যাঙ্কার পৌঁছে জল সরবরাহ করার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। প্রায় দিন স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখান।
আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পালও পানীয় জল সরবরাহের দাবিতে একাধিকবার বিভিন্ন এলাকায় এমনকি জাতীয় সড়কেও অবরোধ করেন। তাঁর অভিযোগ, দামোদরে অবৈধভাবে বালি তোলার জন্য ওই সেতু ভেঙে পড়েছে। মেরামতি করছে না জল প্রকল্পটি।
অপরদিকে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদশন দাশু বলেন, সংবাদমাধ্যমে নিজেকে প্রচারের আলোয় আনতে রাজ্যের বিরুদ্ধে এইরকম অপপ্রচার করছেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক। যা সমস্যা সমাধান করবে পিএইচই এবং সাহায্য করবে আসানসোল পৌরনিগম। এই সমস্যা, সমাধানের জন্য সমস্ত রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প হিসাবে পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কাউন্সিলর, বোরো চেয়ারম্যান শিবানন্দ বাউরি বলেন, “জল প্রকল্পে যে এলাকা দিয়ে যায় সেখানে ৪৩টা সাবমার্সিবল ছিল। তার মধ্যে ৩৪টা সাবমার্সিবল ঠিক হয়েছে। ফলে মহিশিলা এলাকার গ্রামগুলো জল পাচ্ছে। আরও নতুন করে ৫২টা টিউবওয়েলের মধ্যে ২৬টা হয়েছে। বাকিগুলো যদি হয়ে যায় ৭০-৮০ শতাংশ জল সমস্যর সমাধান সম্ভব। বিকল্প ব্যবস্থা করে জলের ঘাটতিটা পূরণ হচ্ছে। বালি চুরির বিষয় প্রশাসন দেখবে। চুরি হচ্ছে না লিগ্যাল হচ্ছে সেটা প্রশাসনের দেখার কাজ। আমাদের এ বিষয়ে কিছু বলার নেই। সেটা প্রশাসন দেখবে। প্রশাসনের কাজ প্রশাসন করবে।”
