
পশ্চিম মেদিনীপুর: ফের আলু নিয়ে গণ্ডগোল। কয়েক মাস আগে আলুর সঠিক না পাওয়ায় প্রবল বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন কৃষকরা। আর এবার নতুন আলু উঠতেই মাথায় হাত আলু চাষিদের। এবারও আলুর দাম না থাকায় তীব্র ক্ষোভ ফুঁসছে কৃষকরা। রাজ্য সরকারের এত প্রকল্প থাকতেও আলুর দাম না থাকায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ। ঘটনার কথা স্বীকার করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তথা রাজ্য কমিটির সভাপতি মুকুল ঘোষ।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেশিরভাগ কৃষক আলু চাষের উপর নির্ভরশীল। আলু চাষ প্রধান অর্থকারী ফসল। আর সেই আলু চাষ করেই বর্তমানে মাথায় হাত কৃষকদের। মাঠ থেকে উঠতে শুরু করেছে নতুন আলু (পোখরাজ-আলু)। অথচ মাঠের নতুন আলুর দাম নেই। ৪৭০ থেকে ৫০০ টাকা কুইন্টাল হিসেবে আলু বিক্রি হচ্ছে কৃষকদের। এক বিঘা জমি আলু বিক্রি করে বিঘে প্রতি কৃষকদের ৫-৬ হাজার টাকা ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। কারণ চাষ করতে বিঘে পিছু খরচ হয়েছে ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। বর্তমানে কৃষকেরা আলুর এমন পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারকে দায়ী করছে।
জানা যাচ্ছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় হিমঘরের বা কোল্ড স্টোরেজের সংখ্যা ৯২। তবে বিক্ষিপ্তভাবে এখনও বেশ কিছু হিমঘরে রয়েছে পুরানো আলু। যার কারণে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা সহ চন্দ্রকোনার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে এখন যে নতুন আলু উঠছে সেই আলুর দাম পাচ্ছে না কৃষকেরা। এমনকী এবছর আলুর দাম বাড়বে না বলেও নিশ্চিত তাঁরা।
জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে এই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে এই সময় নতুন আলু- বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে যেত। তবে যেটা জানা যাচ্ছে, এই সমস্ত এলাকায় উত্তরপ্রদেশের নতুন আলু এসে এখন মার্কেট দখল করছে। যার জন্যই আলু এখন অন্যত্রে কম যাওয়ার কারণেই আলুর বিক্রির চাহিদা নেই, দাম ও কম। তবে চাষিরা চাইছেন, দ্রুত আলুর দাম নিয়ে সরকার হস্তক্ষেপ করুক।
প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সহ-সভাপতি মুকুল ঘোষ বলেন, “নতুন আলু মার্কেট দখল করেছে। আলু কিনছি অথচ দাম কম। ” এক কৃষক বলেন, “বিঘা প্রতি ৩০-৩৫ হাজার খরচা হয়েছে। এখন আলুর দাম পাচ্ছি না। আলু তো চাষ করছি। কিন্তু উপযুক্ত দাম পাচ্ছি না।”