
মেদিনীপুর: পরীক্ষা দিতে নির্দিষ্ট সময়ে চলে গিয়েছিল। ব্যাগপত্র নিয়ে হলে ঢুকেও যায়। কিন্তু তারপরও কী যেন একটা মনে হল, ব্যাগে রাখা বোর্ডটা বার করে দেখে সে। আর তারপরই মাথায় বেজে ভেঙে পড়ে! পরীক্ষা শুরু হওয়ার আর তখন কিছুক্ষণ বাকি। কিন্তু অ্যাডমিট কার্ড রয়ে গিয়েছে বাড়িতে। কীভাবে পরীক্ষা দেবে সে! উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই বিভ্রান্তির শিকার চন্দ্রকোণার এক ছাত্র। পরীক্ষা সেন্টারে এসে দেখলে অ্যাডমিট নেই, বাড়ি রয়ে গিয়েছে।
ওই ছাত্র তখন স্মরনাপন্ন হয় পুলিশ ‘কাকু’দের। পুলিশের সহযোগিতায় মোটরবাইকে চেপে স্কুল থেকে অনেকটাই দূরে বাড়ি থেকে অ্যাডমিট কার্ড এনে পরীক্ষার সেন্টারে বসে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোণার কুঁয়াপুর স্কুলের ছাত্র প্রভাস মন্ডল। প্রভাসের বাড়ি চন্দ্রকোনার বদড়া গ্রামে। চন্দ্রকোনা জিরাট স্কুলের পড়েছে সেন্টার। অ্যাডমিট নেই, প্রথমে স্কুলের শিক্ষকদের বলে। এরপর পুলিশ ‘কাকু’দের বলতেই চন্দ্রকোণা থানা পুলিশের সহযোগিতায় সিভিক পুলিশ দেবীপ্রসাদ প্রমাণিক পুলিশ পাঠিয়ে দ্রুততার সঙ্গে অ্যাডমিট কার্ড এনে পরীক্ষার সেন্টারে এসে পরীক্ষায় বসল প্রভাস। পুলিশের উদ্যোগে খুশি সকলে।
এক অভিভাবক বলেন, “আমরা সত্যিই ওর কথা শুনে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। কীভাবে পরীক্ষা দেবে। রাস্তাটাও তো অনেকটাই। ছেলেটাও ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তারপর দেখলাম পুলিশই উদ্যোগ নিয়ে বাড়ি থেকে অ্যাডমিট কার্ড আনিয়ে দিয়েছে।”
এ বিষয়ে চন্দ্রকোণা থানার ওসি পুরুষোত্তম পান্ডে বলেন, “পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে পুলিশ সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীর দিকে কড়া নজর রাখছে। কারো কোন সমস্যা হলে দ্রুত পুলিশ তৎপরতা সহিত সেই সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছে সে মাধ্যমিক পরীক্ষায় হোক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় হোক।”