
খড়্গপুর: ৬০ বছরের পুরনো স্কুল। একসময় প্রতি ক্লাস ভর্তি থাকত পড়ুয়ায়। সময় বদলেছে। রাজ্যের অনেক স্কুলেই শিক্ষক ঘাটতির অভিযোগ ওঠে। এই স্কুলে অবশ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা খুব একটা কম নেই। তারপরও ২০২৬ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর শহরের এই স্কুল থেকে মাধ্যমিক দিয়েছে মাত্র ৩ জন। কেন স্কুলের এই হাল? পড়ুয়ারা কী এই স্কুলে পড়তে চাইছে না? কী বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা? কী বলছেন স্কুলের শিক্ষকরা?
১৯৬৬ সালে খড়্গপুর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কুমোরপাড়া এলাকায় তৈরি হয় ভারতী বিদ্যাপীঠ হাইস্কুল। স্কুল তৈরির পর পর স্কুলের বহর বাড়ে। কিন্তু, যত দিন এগিয়েছে বহর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে খাতায়-কলমে ৭৬ জন। স্কুলে হাজির হয় হাতে গুনে ২০ থেকে ২৫ জন। আর স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা ১৫ জন। অশিক্ষক কর্মী রয়েছেন চারজন। স্কুলের পরিকাঠামো রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। রয়েছেন অশিক্ষক কর্মচারীও। কিন্তু নেই ছাত্রছাত্রী।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে অশিক্ষক কর্মচারী প্রত্যেকের দাবি, তাঁরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন স্কুলে ছাত্রছাত্রী নিয়ে আসার জন্য। প্রতি বছর নিয়ম করে তাঁরা স্কুল পার্শ্ববর্তী এলাকায় ছাত্রছাত্রী জোগাড়ের চেষ্টা করেন। অভিভাবকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝান। সচেতন করেন। কিন্তু তাও ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে না। বরং কমে যাচ্ছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুনীল হাঁসদার দাবি, করোনার পর থেকেই ছাত্রছাত্রী সংখ্যাটা হঠাৎই কমতে শুরু করেছে। তাঁর বক্তব্য, এই স্কুলে সাধারণত গরিব পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা করে। করোনার পর ওই ছেলেমেয়েরা কাজের জন্য স্কুল ছাড়ে।
তবে তথ্য বলছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালে স্কুল থেকে মাধ্যমিক দিয়েছে ১০ থেকে ১৫ জনের মধ্যে। অর্থাৎ করোনার আগেও স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী খুব বেশি ছিল না। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মাধ্যমিক দিয়েছে ৫ জন করে। আর এ বছর মাধ্যমিক দিয়েছে মাত্র ৩ জন।
এলাকার অভিভাবক অভিভাবকদের বক্তব্য, স্কুলের পরিকাঠামো দিন দিন খারাপ হচ্ছে। পড়ার পরিবেশ নেই। তাই, তাঁরা এই স্কুলে পড়লেও ছেলেমেয়েদের অন্য স্কুলে পাঠাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা শিবু দাস, প্রলয় দাসরা বলছেন, “এই স্কুলে ভালো পড়াশোনা হলে কি আমরা ছেলেমেয়েদের দূরে স্কুলে পাঠাতাম?” স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও তাঁদের আশঙ্কা।
স্কুল কমিটির সভাপতি সমীর গুহর আবার দাবি, “বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে মানুষ এখন আর্থিকভাবে সচ্ছল। ছেলেমেয়েদের ইংরেজি মিডিয়ামে ভর্তি করছেন। আবার অনেকে অন্যের দেখে, ছেলেমেয়েকে ইংরেজি মিডিয়ামে ভর্তি করছেন। কিন্তু, বাংলা মিডিয়ামেও ভালো পড়াশোনা হয়। এই স্কুল থেকেও অনেকে ভালো ছেলেমেয়ে পাশ করেছে।”