
দাসপুর: দোরগোড়ায় প্রার্থীরা। হাতজোড় করে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন। আর নির্বাচনের প্রচারে বাড়ি বাড়ি ভোট চাইতে গিয়েই এলাকাবাসীর ক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রার্থীরা। তাঁদের সামনে পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন এলাকার মানুষজন। তৃণমূল থেকে বিজেপি, সব দলেরই প্রার্থীরা ভোট চাইতে গেলেই শুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের না পাওয়ার যন্ত্রণার কথা। এই ছবিই শনিবার ধরা পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরে।
দাসপুরের তৃণমূল প্রার্থী আশিস হুদাইত এবং বিজেপি প্রার্থী তপন দত্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করছেন। দুই প্রার্থীর কাছেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে শিখা আড়ি, অনিমা আড়িরা বলেন, ভাঙা ঘরে কোনওরকমে আছেন তাঁরা। পঞ্চায়েতে বারবার আবেদন করেও বাড়ির টাকা পাননি। কেউ বলেন, তাঁর বাড়িতে অসুস্থ বৃদ্ধ রয়েছেন। কিন্তু, বার্ধক্য ভাতা না পাওয়ায় ঠিকমতো ওষুধ কিনতে পারছেন না। একাধিকবার প্রশাসনের দুয়ারে ঘুরে ঘুরে কেন কজ হয়নি, সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। একজন মহিলা বাড়ির কথা বলতেই তৃণমূল প্রার্থী তাঁকে আশ্বাস দেন, “দিদির প্রতি আস্থা রাখুন। সবাইকে বাড়ি দেওয়া হবে।” তখন ওই মহিলা বলেন, “আমি মরে গেলে বাড়ি দেবে?”
গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে সরব হন তৃণমূল ও বিজেপি প্রার্থী। দাসপুরের তৃণমূল প্রার্থী আশিস হুদাইত বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার তো বাংলাকে হাতে-ভাতে মারার সবরকম চেষ্টা করছে। তারপরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত দুটি অর্থবর্ষে ৩২ লক্ষ বাড়ি দিয়েছেন। এখনও হয়তো ২০ লক্ষ বাড়ি বাকি রয়েছে। তাই, মানুষ তো তাঁদের দুঃখের কথা বলবেন। মাথা নত করে শোনা আমার কাজ। দিদি একজন দূত হিসেবে তাঁদের কথা শুনতে পাঠিয়েছেন। তাঁদের কথা শুনলাম। তাঁদের আশ্বস্ত করলাম। তৃণমূলের উপর ভরসা রাখার কথা বললাম। তাঁরা আমার কথায় আশ্বস্ত হয়েছেন।”
অন্যদিকে, তৃণমূলকে নিশানা করে বিজেপি প্রার্থী তপন দত্ত বলেন, “তৃণমূল বলে, সব করে দিয়েছি। কিন্তু, কিছুই হয়নি। মানুষ তো ক্ষোভ উগরে দেবেনই। আর ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় বাড়ি হয়?” বিজেপি ক্ষমতায় এলে সব সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি দাবি করেন।