দুয়ারে সুশান্ত, মানুষের সঙ্গে পাত পেড়ে খাওয়া থেকে জনসংযোগ, প্রচারে ঝড় তুলছেন বাম নেতা

জঙ্গলমহলের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে প্রিয় প্রার্থীকে এক সমর্থক মালা পরিয়ে দিতেই সুশান্তর মন্তব্য, ভোটে জিতলে মালা পরাবেন, তার পর সটান মালা খুলে সেই সমর্থককে পরিয়ে দিলেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএম (CPIM) নেতা।

দুয়ারে সুশান্ত, মানুষের সঙ্গে পাত পেড়ে খাওয়া থেকে জনসংযোগ, প্রচারে ঝড় তুলছেন বাম নেতা
প্রচারে সিপিএম নেতা সুশান্ত ঘোষ

পশ্চিম মেদিনীপুর: একুশের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2021) প্রথম দফায় ভোট হচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে। তার ছয়দিন আগে ব্যস্ততা তুঙ্গে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী তথা সিপিএম নেতা সুশান্ত ঘোষের (Sushanta Ghosh)। প্রচারে যেন কোনও খামতিই রাখতে চাইছেন না রাজ্যের প্রাক্তন নেতা। এদিকে জঙ্গলমহলের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আগে প্রিয় প্রার্থীকে এক সমর্থক মালা পরিয়ে দিতেই সুশান্তর মন্তব্য, ভোটে জিতলে মালা পরাবেন। তার পর সটান মালা খুলে সেই সমর্থককে পরিয়ে দিলেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএম নেতা। পাত পেড়ে সবার সঙ্গে খেতেও দেখা গেল তাঁকে।

ভোটের আগে তৃণমূল যখন ‘খেলা হবে’ স্লোগান তুলেছে, তখন শালবনীর সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীর মন্তব্য, “নির্বাচন কোনও খেলা নয়। নির্বাচন হল মানুষের রুজিরোজগার, অর্থনীতি ও রাজনীতির লড়াই।” নাম না করে রাজ্যের শাসক দলকে কটাক্ষ করে সিপিএম নেতার মন্তব্য, “যে রাজনীতি দলের কোনও আদর্শ নেই তারাই নির্বাচনকে খেলা ভাবছে।”

বাংলায় মাওবাদী আন্দোলনে বরাবরই বড় জায়গা এই শালবনি। তাই জঙ্গলমহলের ভোটে তার গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই বেশি। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন একদা জঙ্গলমহলের অশান্তির পিছনে বাম সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলেছেন তখন সুশান্তের দাবি, জঙ্গলমহলকে রক্তাক্ত করার অপরাধে বামফ্রন্ট সরকার যাঁদের জেলে ভরেছিল, তাঁদেরকে জেল থেকে বের করে এখনকার শাসক দল নেতা বানিয়েছে। মানুষের বুঝে নিতে বাকি নেই কিছু। এবার অবশ্য গড়বেতার বদলে শালবনি থেকে লড়াই করতে হবে সুশান্তকে। তবে তা নিয়ে একটুও ভাবিত নন তিনি।

আরও পড়ুন: তৃণমূলের গড়ে নির্বিঘ্নে মনোনয়ন জমা দিলেন আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে বেনাচাপড়া কঙ্কাল কাণ্ডে নাম জড়ায় সুশান্ত ঘোষের। সেই মামলায় দীর্ঘদিন হাজতবাস করেছেন গড়বেতা বিধানসভার ছ’বারের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী। কয়েক মাস আগে ওই মামলা থেকে জামিন পেয়ে নিজের জেলায় ফেরার অনুমতি পান। সুশান্ত জেলায় ফিরছেন এই খবর পেয়েই গড়বেতা এলাকায় দলীয় পতাকা লাগাতে শুরু করেছিল সিপিএম। তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজির হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। আর তারপরেই ফের পশ্চিম মেদিনীপুরে সিপিএমকে সক্রিয় করতে উদ্যোগ নেন তিনি। পার্টি অফিসে বসেছেন। পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, শুনছেন তাঁদের অভাব-অভিযোগের কথা। প্রতিদিন নিয়ম করে জনসংযোগ করছেন প্রায় ১০ বছর পর নিজের জেলায় ফেরা সুশান্ত ঘোষ। আর মানুষেরও প্রতিক্রিয়ায় অভিভূত সুশান্ত নিজে বলছেন, ১০ বছর আগে এলাকায় যে ভালোবাসা পেতাম, এখন দেখছি তা অনেক গুন বেড়ে গিয়েছে। এখন দেখার ভোটবাক্সে এই ভালবাসার প্রতিফলন পড়ে কিনা।