
ক্ষোভে ফুঁসছেন আশা কর্মীরা। ফের ডাক দিয়েছেন স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের। উত্তরববঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের নানা প্রান্ত থেকে সকাল থেকেই কলকাতা আসতে শুরু করেন আশা কর্মীদের বড় অংশ। কিন্তু দিকে দিকে বাধা পুলিশের। কোথাও আটক করে নিয়ে গেল পুলিশ। কোথাও আবার পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পোশাক বদলে কলকাতার ট্রেনের চড়ে বসলেন আশা কর্মীরা। এমনই ছবি দেখা গেল রাজ্যের নানা প্রান্তে। এদিন সকালে বাঁকুড়া স্টেশনে কলকাতার ট্রেন ধরতে আশা কর্মীদের পুলিশ স্টেশনে ঢুকতে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। স্টেশন চত্বর থেকে বেশ কয়েকজন আশা কর্মীকে গাড়িতে চাপিয়ে নিয়েও যায় পুলিশ।
মাসিক ভাতা বৃদ্ধি সহ নিজেদের বেশ কিছুর দাবির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে রাজ্যে কর্মরত আশা কর্মীদের একটা বড় অংশ। আজ কলকাতায় স্বাস্থ্য ভবনে রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরুপ নিগমের কাছে তাঁদের ডেপুটেশন দেওয়ার কথা। সেই ডেপুটেশানে যোগ দিতেই এদিন সকালে পুরুলিয়া এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে কলকাতার উদ্যেশ্যে রওনা দেওয়ার চেষ্টা করেন বাঁকুড়ায় কর্মরত আশা কর্মীদের একাংশ। কলকাতা গামী আশা কর্মীদের আটকাতে এদিন ভোর থেকেই বাঁকুড়া স্টেশনে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক মহিলা পুলিশ। আশা কর্মীরা বাঁকুড়া স্টেশনে পৌঁছাতেই মহিলা পুলিশ আশা কর্মীদের ঘিরে ধরে ট্রেন ধরতে বাধা দেয়। বেশ কয়েকজন আশা কর্মীকে গাড়িতে চাপিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
অভিযোগ কোথাও বাস থেকে টেনে হিজড়ে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে কোথাও বা রাতে বাড়ি বাড়ি হুমকি দিচ্ছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই খানাকুলের এক আশা কর্মীর বাড়িতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে সমস্ত নানা প্রান্তেই আবার পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে কলকাতার আন্দোলনের পথে আশা কর্মীরা। কেউ বাঁকুড়ার জয়পুর ব্লক কেউবা কোতুলপুর ব্লক থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে গোঘাট স্টেশনে এসে হাজির হয়েছেন ট্রেনে করে চলেছেন কলকাতার উদ্দেশ্যে। আরামবাগ গোঘাট খানাকুল পুরশুড়া থেকেও আশা কর্মীরা তাদের ড্রেস চেঞ্জ করে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কার্যত ট্রেনে করে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।
মেদিনীপুরেও আবার পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন আশা কর্মীরা। চলছে ধরপাকড়। মেদিনীপুর স্টেশনে সকালে আশা কর্মীরা জড়ো হলে সেখান থেকে পুলিশ তাদের ট্রেনে উঠতে বাধা দেয় বলেই অভিযোগ। তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আশা কর্মীরা। রেললাইনের উপর শুয়ে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায় আশা কর্মীরা।