
বর্ধমান: বঙ্গে লোকসভা ভোটের প্রচারে ঝড় তুলতে বৃহস্পতিবার রাতেই কলকাতায় পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবারই করছেন তিনটি সভা। এদিন সকালে সোজা চলে যান বর্ধমানে। বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের দক্ষিণ বর্ধমান সাই কমপ্লেক্স মাঠে করলেন সভা। বর্ধমান-দুর্গাপুরে এবারের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। তাঁর সমর্থনে সভা করার পাশাপাশি অসীম সরকারের হয়েও প্রচার করছেন তিনি। তারপর তাঁর যাওয়ার কথা নদিয়া ও বীরভূমে।
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সম্পর্কে রাজ্যের প্রতিটি মানুষ জানেন। কার কাজকর্ম সম্পর্কে প্রতিটি মানুষ গর্বিত। কিন্তু সেই পরিবার সম্পর্কে নানা ধরনের কু-কথা প্রয়োগ করছে। এটা যথেষ্ট অপমানজনক। এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার প্রতিটি গরিব মানুষকে শোষণ করছে, মানুষ সাহায্য চেয়ে পায় না। আমাদের কেন্দ্রীয় সরকার গরিব মানুষের জন্য বিনামূল্যের রেশনের ব্যবস্থা করেছে।
এখানে আগে শিল্প হত, অনেক কারখানা ছিল। কিন্তু তৃণমূলের আমলে সব উঠে গিয়েছে। আগে এখানে লাল পতাকা লাগিয়ে কাজ থমকে রাখা হতো। কিন্তু তোলাবাজি, অত্যাচার করে সব তুলে দিয়েছে। এমন সরকার কে চাইবে?
এবার ৪০০ পার হবে কি হবে না? হবেই। সেটা বিরোধী দলগুলি জানে। লোকসভায় সবচেয়ে বড় বিরোধী দল কে হবে সেটা নিয়ে লড়াই করছে। আমরা গত কয়েক বছরে প্রচুর কাজ করেছি। যাতে মানুষ ভালো থাকে। রেশন ব্যবস্থাকে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছি। তাই এবার ৪০০ পার হবে। যেখানে মানুষের টাকা লুট করা হয়েছে, সেই পীড়িত মানুষ দের টাকা ফেরৎ দেওয়া হবে। এটা মোদির গ্যারান্টি।
তৃণমূল কী ১৫ আসন নিয়ে সরকার তৈরি করতে পারবে? কংগ্রেস গোটা দেশে যতই জোর লাগাক এবার ৫০ আসন পাওয়া মুশকিল আছে। ৫০ সিট যাঁরা পাচ্ছে না। তাঁরা কী সরকার তৈরি করতে পারবে? আগে এখানে বামেদের সূর্য ডুবত না, এখন লাল ঝান্ডা দেখাই যায় না। ওরা কী সরকার তৈরি করতে পারবে? দিনের শেষে কেউ যদি সরকার তৈরি করতে পারে তাহলে সেটা বিজেপি-এনডিএ। সরকার হলে বিজেপি-এনডিএ-র সরকারই হবে।
বর্ধমানের পর তেহট্টের সভা থেকেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন মোদী। প্রথম দফা লোকসভা নির্বাচনের আগেও বাংলায় ভোট প্রচার শুরু করেছিলেন কৃষ্ণনগর থেকে। সভা করেছিলেন কৃষ্ণনগরের বিজেপি প্রার্থী অমৃতা রায়ের সমর্থনে। এদিনও তেহট্ট থেকে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে তুললেন আওয়াজ।
তৃণমূলের তোলাবাজি চলতে দেব না। এটা মোদীর গ্যারান্টি। সমস্ত লুঠ, সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হবেই। বাংলার বিকাশের জন্য সব বুথে বিজেপিকে জেতাতে হবে। অসীম সরকার, দিলীপ ঘোষকে জেতাতে হবে। ওনারা যে ভোট পাবেন তাতে মোদীর শক্তি বাড়বে। প্রতিটা ভোট মোদীর খাতায় যাবে।
“শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতিতে অনেক যোগ্য প্রার্থী মুশকিলে পড়েছে। আমি বাংলার বিজেপির সভাপতিকে বলেছি ওই সমস্ত যোগ্যদের কীভাবে সাহায্য করা যায় দেখতে। একটা লিগ্যাল সেল ও একটা সোশ্য়াল মিডিয়া প্ল্য়াটফর্ম তৈরি করতে বলেছি। যাঁদের কাছে যোগ্য প্রার্থী হওয়ার সঠিক নথিপত্র রয়েছে তাঁদের পাশে থাকবে বিজেপি। আইনি সহায়তা দেবে। তাঁরা যাতে সুবিচারের পায় তার জন্য সর্বদা পাশে থাকবে।”
শিক্ষক নিয়োগে তৃণমূলের তোলাবাজেরা লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতীদের ধোঁকা দিয়েছে। কেমন দুর্নীতি হয়েছে তা তো নোটের বান্ডিল দেখেই বোঝা গিয়েছে। এত দুর্নীতি করেছে যে নোট গোনার মেশিনও ক্লান্ত হয়েছে। এই দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতাদের জনতা চিনে গিয়েছে।
মোদী সরকার এখন বাংলার ৬ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দিচ্ছে। ৮০ লক্ষের বেশি ঘরে জল পৌঁছে দিয়েছে। ৫ কোটি মানুষ জনধন অ্যাকাউন্ট খুলেছে। গরিবের জন্য বিমা করেছে। বর্ধমানের লক্ষ লক্ষ কৃষকের জন্য কৃষক সম্মাননিধির হাত ধরে ৫০০ কোটি দিয়েছে। এখানের যে আলু চাষী রয়েছে তাঁদের লাভ হয়েছে। কিন্তু, কেন্দ্র সরকারের সব প্রকল্পে তৃণমূলের তোলাবাজেরা লুঠপাঠ করছে।
কংগ্রেস বলে মোদীর বিরুদ্ধে ভোট জিহাদ করো। জিহাদ কী হয় তা দেশের মানুষ ভাল করেই জানে। আমাদের দেশে দশকের পর দশক ধরে এই ভোট জিহাদের খেলা পর্দার আড়ালে চলত। এখন প্রকাশ্যেই সেই ঘোষণা করছে।
সন্দেশখালিতে আমাদের দলিত বোনেদের সঙ্গে কত বড় অপরাধ হয়েছে। গোটা দেশ তদন্ত চাইছে। তৃণমূল অপরাধীদের বাঁচাতে চাইছে। আমি তৃণমূলকে প্রশ্ন করতে চাই অপরাধীর নাম শাহজাহান শেখ বলেই কী বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে?
জয় শ্রী রাম বললে ওদের আপত্তি আছে। জয় শ্রী রাম বললে ওদের জ্বর এসে যায়। ওদের রাম মন্দিরের নির্মাণে আপত্তি আছে। রাম নবমীর শোভাযাত্রায় আপত্তি আছে।
তৃণমূল-বাম-কংগ্রেস কোনও রাজ্যের কী অবস্থা করতে পারে তা আপনারা ভাল করে জানেন। পাশেই ত্রিপুরাকে ধ্বংস করে রেখে দিয়েছে বামেরা। গত পাঁচ বছরে ত্রিপুরের জীবন বদলে দিয়েছে বিজেপি। ওরা শুধু ভোটের জন্য সমাজকে ভাগ করতে চায়। দেশকে ভাগ করতে চায়।
“এই তৃণমূল-বাম-কংগ্রেস দিনরাত মোদীকে আক্রমণ করে চলেছে। বলছে মোদীকে গুলি করে দাও। কিন্তু, ভয় পাই না। যাঁরা ভয় পায় তাঁদের দলে থাকি না।”
“আমি চাই ধান চাষে ফের বর্ধমানের জয়জয়কার হোক। আমি চাই শিল্পনগরী হিসাবে দুর্গাপুরের পরিচয় দেশের পাশাপাশি গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক।”
“আমি মজা করার জন্য জন্মাইনি। আমি নিজের জন্য বাঁচতে চাই না। আমি আপনাদের সকলের পায়ের ধূলো মাথায় নিয়ে আপনাদের সেবার সংকল্প নিয়েছি। এই মহান ভারত মাতার ১৪০ কোটি দেশবাসীর সেবার জন্য ব্রতী হয়েছি। মোদীর একটাই স্বপ্ন, আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করা। আমার জন্য আপনারাই আমার পরিবার। আমার ভারত, আমার পরিবার।”