
পূর্বস্থলী: পুরনো ঘর ভেঙে ইমারত তৈরি করছেন হুমায়ুন কবীর। দিনে দিনে বাড়ছে শক্তি। এবার ভোটের আগেই তাঁর দলে যোগদানের বহর। তাও আবার তৃণমূল থেকেই। কয়েক দিনের ব্যবধানে পূর্ব বর্ধমানে পূর্বস্থলীতে আবার তৃণমূল ছেড়ে ভরতপুরের বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবীরের দলে গেল ২৫০টি পরিবার।
ঘটনা পূর্বস্থলী ২ ব্লকের নিমদহ পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ধরমপুর গ্রামের। সেখানেই তৃণমূল ছেড়ে এবার হুমায়ুনের পার্টিতে গেল ২৫০টি পরিবার। প্রত্যেকেই তৃণমূলের কর্মী কিংবা সমর্থক। বাংলার বিধানসভা নির্বাচন যখন দোরগোড়ায় সেই আবহে এই ঘটনা কার্যত তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু কোন ক্ষোভে দলবদল? যোগদানকারীদের দাবি, “তৃণমূল সরকার সংখ্য়ালঘুদের বেপথে চালিত করছে। চুরি শেখাচ্ছে। তাই সেই প্রতিবাদেই এই যোগদান।”
এদিন জনতা উন্নয়ন পার্টির সম্পাদক তথা আসন্ন নির্বাচনে পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বাবান ঘোষের হাত থেকেই পতাকা তুলে নেয় ২৫০টি পরিবারের সদস্যরা। ওই জুপ নেতার মতে, “এনারা বহুদিন ধরেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। আমি তো বললাম, তোরা যুবসাথী পাবে লাইনে দাঁড়া। আমাকে ওরা উত্তর দিল, একটা গোটা পাঁঠার দাম ১০ হাজার টাকা। আমি যুবসাথীর লাইনে দাঁড়িয়ে দেড় হাজার টাকার পড়াশোনা করা জীবনটা বিকিয়ে দিতে পারব না। আমরা আর এই সরকারের দ্বারা বোকা হবে না।”
প্রসঙ্গত, দু’দিন আগেই এই পূর্বস্থলীতেই বাবান ঘোষের হাত ধরে তৃণমূল থেকে জনতা উন্নয়ন পার্টিতে যোগদান করে ১৫০ পরিবার। এক সপ্তাহ কাটেনি, তার মধ্যেই আরও বাড়ল যোগদানের সংখ্যা। যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা বলেই উল্লেখ করছে রাজনৈতিক মহল। দল তৈরির পর থেকেই হুমায়ুন দাবি করেছেন, বড় মাত্রায় ভোট কাটার কথা। দাবি করেছেন ত্রিশঙ্কু সরকার তৈরির কথা। দূর ভবিষ্যতে এই সরকার কার্যত কল্পনা হলেও, বড় মাত্রায় যে সংখ্য়ালঘু ভোট কাটা যেতে পারে, সেই সম্ভবনাকে এড়িয়ে যেতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা।