
পূর্ব বর্ধমান: হোটেলের ঘরে স্ত্রীয়ের ঝুলন্ত দেহ। উদ্বিগ্ন দু’হাজার কিলোমিটার দূরে বসে থাকা স্বামী। আত্মহত্য়া নয়, খুনের অভিযোগ তুলেই থানায় দ্বারস্থ হল পরিবার। যা ঘিরে শোরগোল পড়ল পূর্বস্থলীতে।
পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলীর নাদনঘাট থানার অন্তর্গত সিদ্ধেপাড়া এলাকার ঘটনা। সেখানেই বসবাস বৈরাগ্য় পরিবারের। সব মিলিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের সংসার। কিন্তু কয়েক বছর আগে তৈরি হওয়া আর্থিক অনটন দূরত্ব বাড়ায় দম্পতির। বছর দেড়েক আগেই বাড়ি ছেড়ে গুজরাটে পাড়ি দেন সোনামণি বৈরাগ্য। আহমেদাবাদের একটি হোটেলের নিজস্ব রেস্তোরাঁয় মহিলা পরিষেবাপ্রদানকারীর কাজে যোগ দেন তিনি। স্বামী মিঠুন বৈরাগ্য় পড়ে থাকেন গ্রাম বাংলাতেই।
এতটা অবধি সবই ঠিক ছিল। অঘটন আসে গত ১৩ তারিখ, শনিবার। বিকাল ৪টের দিকে একটি অন্য নম্বর থেকে ফোন আসে পূর্বস্থলীর ওই বাড়িতে। ফোনের ওপার থেকে জানানো হয় সোনামণি আর নেই। হোটেলেরই একটি ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু মেয়ে যে আত্মহত্যা করেছে, তা মানতে নারাজ মা শেফালী কর্মকার। তাঁর দাবি, আত্মহত্যা নয়, এটা খুন। আর সেই অভিযোগকেই সামনে রেখে স্থানীয় নাদনঘাট থানার দ্বারস্থ হন তিনি। দায়ের করেন এফআইআর।
এদিন মৃতের স্বামী মিঠুন বৈরাগ্য বলেন, “আমরা রবিবার সকালে জানতে পারি। শ্যালক ফোন করে এই খবরটা জানায়। আমাকে সবাই বলে, বউ নাকি গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে।” এই প্রসঙ্গে তিনি স্ত্রীয়ের এক সহকর্মীর কথাও টেনে আনেন। তাঁর দাবি, “ওর সঙ্গে একটা ছেলে রুমে থাকত, আমি ওর শাস্তি চাই। আমার সন্দেহ ওই ছেলেটাই কিছু করেছে।” আপাতত মৃত্যুর কারণ সম্পূর্ণ ভাবে অস্পষ্ট।