AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Burdwan: ‘ডান হাত’ থেকে নোটিস নিল ‘বাঁ হাত’! রিজিয়া খাতুনের অবস্থা দেখে হতবাক ভোটাররাও

বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার ৪০ নম্বর বুথের বিএলও রিজিয়া খাতুন। তাঁর বুথে শুনানির জন্য এখনও পর্যন্ত ২৭৩ জনের নামে এসআইআর শুনানির নোটিস এসেছে। কম সময়ে এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে নোটিস দিতে তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বহুবিধ প্রশ্নের সম্মুখীনও হতে হচ্ছে।

Burdwan: 'ডান হাত' থেকে নোটিস নিল 'বাঁ হাত'! রিজিয়া খাতুনের অবস্থা দেখে হতবাক ভোটাররাও
বিএলও রিজিয়া খাতুনImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Jan 19, 2026 | 6:49 PM
Share

নয়া দিল্লি: গোটা বুথের ভোটারদের নোটিস দেওয়ার দায়িত্ব তাঁর হাতে। সেই বিএলও-র নামেই এল নোটিস। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে নোটিস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তা দেখে হতবাক বিএলও নিজেই। অগত্যা, নিজেই নিজেকে দিলেন নোটিস। কমিশনের ফরমান মেনে নিজের এক হাত থেকে নোটিস দিলেন অপর হাতে। তিনি যে নথি দিয়েছিলেন, তাতে সন্তুষ্ট নয় নির্বাচন কমিশন। এবার কী নথি দেবেন, সেটাও বুঝতে পারছেন না।

তিনি জানাচ্ছেন, একে তো কাজের চাপে নাজেহাল তাঁরা। তার উপর নিজের নামে নোটিস আসায় লোককে জবাব দিতে গিয়ে আরোও নাজেহাল হচ্ছেন তিনি। লোককে বোঝাতেও পারছেন না তিনি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বিএলও তাই নিজেই নিজেকে নোটিস ধরিয়েছেন।

বিএলও-র বলেন, “আমার দায়িত্বে থাকা বুথে ২৭৩ জনের নামে নোটিস এসেছে। সবাইকেই বাড়ি গিয়ে গিয়ে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিস দিয়ে এসেছি। এই ২৭৩ জনের মধ্য আমি নিজেও একজন। এখন আমাকে কে নোটিস দেবে? তাই আমি আমার মনকে বোঝাতে ডানহাত থেকে বামহাতে নোটিস নিলাম।”

আরও একটা সমস্যার কথাও বলেন তিনি। বিএলও বলেন, “নোটিস দেওয়ার সময় সবাই জিজ্ঞাসা করছেন কী কী নথি নিয়ে যাব? কেন নোটিস এল? তাঁদেরকে যেমন নথি নিয়ে বোঝাচ্ছি, আমার নিজেরই নোটিস এসেছে, তেমনই নিজেও নথি জোগাড় করছি। এইভাবে নির্বাচন কমিশনের তরফে দেওয়া বিএলও-র দায়িত্বও পালন করছি, আবার নিজের নামটা যাতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না হয়ে যায় তারও চেষ্টা করছি।”

বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভার ৪০ নম্বর বুথের বিএলও রিজিয়া খাতুন। তাঁর বুথে শুনানির জন্য এখনও পর্যন্ত ২৭৩ জনের নামে এসআইআর শুনানির নোটিস এসেছে। কম সময়ে এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে নোটিস দিতে তিনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বহুবিধ প্রশ্নের সম্মুখীনও হতে হচ্ছে। স্কুল,সংসার ও বিএলওর ডিউটি নিয়ে একপ্রকার নাজেহাল অবস্থার মধ্যেই নিজের নামেই নোটিস আসায় কিছুটা ধাক্কা খেয়েছেন রিজিয়া খাতুন।

স্থানীয় তৃণমূল নেতা ফিরোজ খান কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “বাংলার মানুষকে হয়রানি করতে উঠে পড়ে লেগেছে বিজেপি। বিজেপির কথা মতো নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষকে নোটিস ধরিয়ে হয়রানি করছে। মানুষকে কাজকর্ম ফেলে শুনানিতে যেতে হচ্ছে।” বিজেপি মুখপাত্র শান্তরূপ দে বলেন, “নির্বাচন কমিশন তাঁদের মতো করেই কাজ করছে। যাদের প্রয়োজন তাঁদের ডাকছে। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। আসলে তৃণমূল লোকজনকে উত্তপ্ত করছে, রাস্তায় নামাচ্ছে, না হলে তো ওদের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামবে।”