
বর্ধমান: ভোটের পারদ চড়ছে বাংলায়। এরই মধ্যে প্রচারাভিযানকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহর। রাস্তায় ফেলে এলোপাথাড়ি লাথি মারার ভিডিয়ো সামনে এসেছে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন। বর্ধমান থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ করল তৃণমূল ও বিজেপি।
বিজেপির অভিযোগ, বর্ধমান শহরের পুলিশলাইন মোড় এলাকায় গৃহসম্পর্ক অভিযান করছিল তারা। সেই সময় বিজেপি কর্মীদের উপর চড়াও হন তৃণমূল নেতা শ্যামল রায় ও তাঁর অনুগামীরা। বিজেপি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে কার্যত এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন তৃণমূল নেতারা। বিজেপির আরও অভিযোগ, রাস্তায় একা পেয়ে তাঁদের এক কর্মীকে মারধর করা হয়।
জেলা বিজেপির সম্পাদক দেবজ্যোতি সিংহরায় বলেন, “আমাদের বাড়ি বাড়ি প্রচারাভিযান চলছে। প্রত্যেক বাড়িতে যাচ্ছি আমরা। শ্যামল রায় বলে একজন তৃণমূলে নতুন যোগ দিয়েছেন। তিনি নিজেকে নেতা হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। এর আগে তিনি বিজেপি কর্মীদের ধমক দেন। মঙ্গলবার ফের আমাদের প্রচারাভিযানের সময় তৃণমূলের গুন্ডারা হামলা চালায়। তখন আমরা প্রতিরোধ করি। ঝামেলার মূলে ওই শ্যামল রায়। আগে আমাদের দলে ছিলেন। বছর দুই আগে তৃণমূলে গিয়েছেন। উনিই দৌরাত্ম্য করছেন।”
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন বর্ধমান শহর তৃণমূলের সহসভাপতি শ্যামল রায়। তিনি বলেন, “আমরা দেওয়াল লিখনের কাজ করছিলাম। হঠাৎ আমরা দেখতে পাই, কিছু বহিরাগত প্রচারাভিযানের নামে আমাদের চুনকাম করা দেওয়ালে স্টিকার লাগিয়ে দেয়। তাছাড়া, সাধারণ মানুষ ও আমাদের উদ্দেশে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে। খোকন সেনের নেতৃত্বে এটা হয়েছে। আমাকে ও আমাদের বিধায়কের উদ্দেশে গালাগালি করে। আমাদের কয়েকজনকে মারধর করে বেরিয়ে যেতে চেষ্টা করে। আমরা প্রতিহত করি। আমাদের কোনও প্ল্যানিং ছিল না। ওরা প্ল্যানিং করে এই হামলা চালিয়েছে।”