
পূর্ব বর্ধমান: তাঁর বন্ধুর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন স্ত্রী। বুঝতে পারেননি। আমন্ত্রণ পেয়ে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বন্ধুর বাড়িতে যান। তাঁর স্ত্রী ও বন্ধু যে আগে থেকে সব প্ল্যান করে রেখেছিলেন, টের পাননি। বন্ধুর বাড়ি গিয়েই খুন হতে হল ব্যক্তিকে। হাড়হিম ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘিতে। ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে খুন করা হয় সফিকুল ইসলাম আনসারি নামে ওই ব্যক্তিকে। সেচ ক্যানাল থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। খুনের পর আবার থানায় গিয়ে অন্য গল্প ফেঁদেছিলেন মৃতের বন্ধু। তবে শেষরক্ষা হয়নি। মৃতের স্ত্রী ও বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত সফিকুল ওরফে শেখ আরিফ চেন্নাইয়ে সোনার কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি দেওয়ানদিঘি থানার ক্ষেতিয়া বিজয়বাটি এলাকায়। সফিকুলের অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ও বন্ধু মমতাজউদ্দিন শেখ ওরফে উজ্জ্বল শেখের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এসআইআর-র জন্য কিছুদিন আগে বাড়ি আসেন সফিকুল। রবিবার সকালে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে মিলিকপাড়ায় উজ্জ্বল শেখের বাড়ি যান তিনি। তারপর সন্ধ্যা নাগাদ সেচ ক্যানাল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় সফিকুলের দেহ পাওয়া যায়। কোনও ভারী বস্তুর আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের অনুমান।
বছর চল্লিশের সফিকুলকে খুনের ঘটনা নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গতকাল রাত আটটা নাগাদ মমতাজউদ্দিন শেখ ওরফে উজ্জ্বল শেখ দেওয়ানদিঘি থানায় আসে। জানায়, সে ও তার বন্ধু একটি গয়নার দোকানে গিয়েছিল। তারপর যখন ফিরছিল, তখন কয়েকজন তাদের আটকায়। তারপর তার বন্ধুকে নামিয়ে নেয়। আর ও রুদ্ধশ্বাসে সেখান থেকে চলে আসে। গ্রামে গিয়ে ঘটনাটি জানায়। গ্রামের লোকজনদের নিয়ে খোঁজাখুঁজি করে। তারপর থানায় আসে। আমরা খোঁজাখুঁজি শুরু করতেই গ্রাম থেকে খবর আসে, একজনের মৃতদেহ ক্যানাল থেকে পাওয়া গিয়েছে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “প্রথম থেকেই উজ্জ্বল শেখের বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ছিল। এরপর রাজিয়া সুলতানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে তাদের প্ল্যানের কথা জানা যায়।” সফিকুলকে খুনের কারণ নিয়ে তিনি বলেন, “রাজিয়া সুলতানা ও উজ্জ্বল শেখ বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু, তাদের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সফিকুল। তার চেন্নাই ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও টিকিট বাতিল করে। তখনই রাজিয়া ও উজ্জ্বল শেখ তাকে খুনের পরিকল্পনা করে। প্ল্যানের কথা ধৃতরা স্বীকার করেছে। এরা যে চালাকি করেছিল, সেটা ধোপে টেকেনি। অপরাধীদের যাতে কঠোর শাস্তি হয়, তা নিশ্চিত করবে পুলিশ।” উজ্জ্বল শেখও বিবাহিত বলে পুলিশ জানিয়েছে। সফিকুলকে খুনের সময় উজ্জ্বল শেখের সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সফিকুলের মা মাস্তন্নিসা আনসারি। তিনি বলেন, “আমাদের বাড়িতে যাতায়াত ছিল উজ্জ্বল শেখের। গতকাল সে আমার ছেলেকে তাদের বাড়িতে নিমন্ত্রত করে। সকালে আমার ছেলে, বউমা ও নাতনি ওদের বাড়িতে যায়। সন্ধেয় আমার ছেলে বউমা ও নাতনিকে ওই বন্ধুর বাড়িতে রেখে আসছিল। ওই বন্ধুও আসছিল। তারপর বন্ধু নাকি থানায় এসে বলে, কয়েকজন ঘিরে আমার ছেলেকে মেরেছে।” মৃতের আত্মীয় শেখ হারাধন বলেন, “কাজের জন্য শেখ আরিফ চেন্নাইয়ে থাকত। এসআইআর-র জন্য দিন দশেক আগে বাড়ি এসেছিল। আমরা চাই, দোষীরা শাস্তি পাক।”