
বর্ধমান: যানজট আর নিত্যদিনের ভোগান্তি এই হল বর্ধমান রামপুরহাট লুপ লাইনের তালিত রেলগেটের রোজনামচা। এখন দ্রুত গতিতে রেলগেটের উপর উড়ালপুল নির্মাণের কাজ চলছে। ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর এই উড়ালপুলের এক লেনের কাজ এক বছরের মধ্যেই শেষ হবে। আপাতত এক লেন চালু করার ভাবনা নির্মাণকারী সংস্থা ও রেলের। আর তাতেই শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি।
বিজেপির দাবি, তাদের সাংসদের উদ্যোগেই উড়ালপুল নির্মাণ হচ্ছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের তৎকালীন সাংসদ সুরেন্দ্র সিং অহলুলিয়ার উদ্যোগেই এই সেতুর বাস্তবায়ন হয়েছে। সব কৃতিত্ব বিজেপি সাংসদের। তবে তৃণমূল শিবির তা মানতে নারাজ।” জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, “কীর্তি আজাদ বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভায় সাংসদ নির্বাচিত হবার পরই সেতুর কাজ শুরু হয়েছে। সাংসদ রীতিমত রেল দফতরের সঙ্গে লেগে থেকে ও তার তদারকির জন্যই উড়ালপুল নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে হচ্ছে।”
বস্তুত, পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্যতম ব্যস্ততম সড়কপথ বর্ধমান সিউড়ি ১২৪ নম্বর জাতীয় সড়ক । একসময় যার পরিচিতি ছিল এইচএ ২বি নামে। বর্ধমানের নবাবহাট মোড় থেকে সিউড়ি পর্যন্ত প্রায় ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক প্রতিদিন হাজার হাজার ছোট-বড় যানবাহনের চলাচল করে। এই দীর্ঘ পথের মধ্যে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ রেল ক্রসিং দীর্ঘদিন ধরেই দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল ভেদিয়া সাবওয়ে এবং তালিত রেলগেট। কিছুদিন আগেই ভেদিয়ায় উড়ালসেতু নির্মাণ সম্পূর্ণ হওয়ায় সেখানে এখন আর কোন সমস্যা নাই। বছর খানেক আগেও ভেদিয়ার সাবওয়ে পারাপারের সময় চরম ভোগান্তি পোহাতে হত, তা থেকে এখন মুক্তি পেয়েছেন যানচালকরা।
তবে তালিতের লেভেল ক্রসিং এখনও দুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দু। রেলগেট নামলেই দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্স, স্কুলবাস, পণ্যবাহী ট্রাক সহ অসংখ্য যানবাহন। অতীতে একাধিকবার অ্যাম্বুলেন্সে আসা রোগীর মৃত্যু কিংবা প্রসূতি মায়ের রেলগেটেই সন্তান প্রসবের মতো হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে এলাকা। মাঝে মধ্যেই যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে রেলগেট দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় মানুষ ও চালকরা, এমনকি রেল অবরোধের ঘটনাও ঘটে ।
এই অবস্থায় তালিতে রেল ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখছেন সকলে। জানা গিয়েছে, ব্রিজটি ২ বাই ২ লেন হবে। ইতিমধ্যে একটি লেনের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। নির্মাণকারী সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার মিথিলেশ পাণ্ডে জানান, আগামী এক বছরের মধ্যেই অন্তত একটি লেন চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।এক লেন চালু হলেই তালিত রেলগেটের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে বলে আশা প্রশাসনের। পুরোপুরি ভাবে উড়ালপুল চালু হলে ১২৪ নম্বর জাতীয় সড়কে যাতায়াত আরও দ্রুত হবে বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষজন ।