Ketugram: এই গ্রামে ভোট আছে, প্রচার নেই, দেখা মেলে না কোনও নেতার
Burdwan: গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কষ্ট করে নাকি গ্রামে আসেন না রাজনৈতিক দলের নেতারা, এমনটাই অভিযোগ গ্রামবাসীদের। আরও অভিযোগ, অন্য সময় স্থানীয় নেতা কর্মীদের গ্রামে দেখা না মিললেও ভোট এলেই গ্রামে দেখা যায় তাঁদের। মেলে প্রতিশ্রুতির বন্যা। তারপর সেই একইভাবে চলে গ্রামবাসীদের জীবন।

কেতুগ্রাম: ভোট আবহে নির্বাচনী প্রচার নেই গ্রামে। গ্রামে ভোটার রয়েছে। ভোটও দেন ভোটাররা। অথচ অভিযোগ, প্রচারে নাকি আসেন না রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ভাঙা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পেরতে হয় বলেই কি যেতে চান না কেউ!
কেতুগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বিধানপল্লী গ্রামের চিত্র এমনটাই। কেতুগ্রামের মূল সড়ক থেকে এই গ্রামে পৌঁছতে জমির সরু আল ধরে এক কিলোমিটারের বেশি হাঁটাপথ পেরতে হয়। এরপর পার হতে হবে বাঁশের ভাঙা নড়বড়ে সাঁকো। বছরের অন্য সময় এই আলপথ ধরে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষাকালে এক হাঁটু কাদা পেরতে হয়। পথচলা দুষ্কর। অন্যদিকে বর্ষায় ব্রহ্মানি নদীর জল বাড়লে ভেঙে যায় সেতু। সেইসময় একপ্রকার গ্রামেই বন্দিদশায় কাটাতে হয় গ্রামবাসীদের।
গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কষ্ট করে নাকি গ্রামে আসেন না রাজনৈতিক দলের নেতারা, এমনটাই অভিযোগ গ্রামবাসীদের। আরও অভিযোগ, অন্য সময় স্থানীয় নেতা কর্মীদের গ্রামে দেখা না মিললেও ভোট এলেই গ্রামে দেখা যায় তাঁদের। মেলে প্রতিশ্রুতির বন্যা। তারপর সেই একইভাবে চলে গ্রামবাসীদের জীবন।
জানা গিয়েছে, বিধানপল্লী গ্রামে এখন ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবারের বসবাস। যাদের পেশা চাষ। আগে অনেক পরিবার থাকলেও ধীরে ধীরে অন্যত্র চলে গিয়েছে সবাই। তবুও এখন ৫০০-র মতো ভোটার রয়েছে ওই গ্রামে। কিন্তু ভোট এলেই বা কী, না এলেই বা কী! রোদ মাথায় কাদামাটির আলপথ, ভাঙা সাঁকো পেরিয়ে গ্রামে আসেন না রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। নেই রাজনৈতিক প্রচার। নেই ব্যানার, ফেস্টুন। নেই দেওয়াল লিখন। বদলে আছে অনুন্নয়নের স্পষ্ট ছাপ। দীর্ঘদিনের ভাঙা রাস্তা। রাস্তায় গভীর খাল। বর্ষায় জলে ভরে থাকে সেই রাস্তা। ভেঙে যাওয়া সেতু। নেই স্ট্রিট লাইট। বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছয়নি পানীয় জলের কল। এমনকী সেতু ভেঙে গেলে গ্রামবাসীরাই টাকা দিয়ে মেরামত করে সেই ভাঙা সেতু।
অভিযোগ,বহুবার স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে প্রশাসনে কাছে আবেদন করা হলেও মিলেছে শুধু প্রতিশ্রুতি। ভোট এলেও মেলে প্রতিশ্রুতি। বাস্তবে কোনও কাজই হয় না, উন্নয়ন হয় না গ্রামে। কেতুগ্রামের বিদায়ী বিধায়ক তথা এবারের বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূল কংগ্রেস দলের প্রার্থী শেখ শাহনেওয়াজ জানান, অভিযোগ ঠিক নয়। সরকারি সমস্ত প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা থেকে বাদ পড়েননি বিধানপল্লীর গ্রামবাসীরা। তিনি বলেন, ‘ওরাও আসে আমাদের কাছে। গ্রামের মানুষজন যেতে বললেই আমরা গ্রামে যাই এবারেও যাব।’
তিনি জানান, কেতুগ্রামের বিজেপি প্রার্থী মথুরা ঘোষের দাবি, সন্ত্রাস করে আমাদের যেতে বাধা দেওয়া হয়। তবুও আমরা যাই। এবারেও যাব। শাসক দল নিজেদের আখেরে গোছাতে ব্যস্ত, নির্বাচন এলেই তখন ওদের কথা মনে পড়ে।
