
জামালপুর: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল দু’বারের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যার। এই ‘ডিলিট’ হওয়া নাম নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ হয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের দু-বারের তৃণমূল সদস্য রূপালি বিশ্বাসের নাম বাদ পড়েছে এসআইআরের তালিকা থেকে। পাশাপাশি, জামালপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতেরই উপপ্রধান সাহাবুদ্দিন মণ্ডলকেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ দেখানো হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ ছিল, রূপালি বিশ্বাস ‘বাংলাদেশি অনুপ্রেবশকারী’। আর এবার নাম বাদ যাওয়ায় তাঁরা রূপালি বিশ্বাসের সদস্য পদ খারিজের দাবি তুলে সরব হয়েছেন।
রূপালি বিশ্বাসের বাড়ি জামালপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত উত্তর মোহনপুর গ্রামে। এই গ্রামের ১৪২ নম্বর বুথের ভোটার তালিকায় এতদিন ছিল তাঁর নাম। পরপর দু’বার এই বুথের তৃণমূল প্রার্থী হয়ে পঞ্চায়েত ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জামালপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের সদস্য হন রূপালি। বিজেপির তরফে কমিশনকে অভিযোগ জানানো হয় যে, ’বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ রূপালী বিশ্বাসের স্বামী তারক বিশ্বাস তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। তিনিই ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ খাটিয়ে অবৈধ উপায়ে তাঁর স্ত্রীর নাম তুলেছেন ভারতের ভোটার তালিকায়। তিনি তাঁর স্ত্রীর নামে ভোটার কার্ড,আধার কার্ড ও তফসিলি জাতি শংসাপত্র হস্তগত করে নেন বলেও অভিযোগ ছিল বিজেপির। বিরোধীদের অভিযোগ, সেইসব শংসাপত্র দাখিল করেই ভোটে প্রার্থী হয়ে রূপালি বিশ্বাস দু’বারের পঞ্চায়েত সদস্য হয়েছেন।
গত শনিবার এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যায়, রূপালি বিশ্বাসের নামের জায়গায় ‘ডিলিট’ উল্লেখ করা রয়েছে। শুধু তাই নয়, জামালপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান সাহাবুদ্দিন মণ্ডলকেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বিচারাধীন দেখানো হয়েছে। এই তালিকা সামনে আসার পর বিজেপি নেতা সুশান্ত মণ্ডল বলেন, “প্রমাণ হয়ে গেল যে আমরা তৃণমূলের দু’বারের পঞ্চায়েত সদস্য রূপালি বিশ্বাসের নামে যে অভিযোগ কমিশনে জানিয়েছিলাম সেটা নায্যই ছিল। এবার বিজেপির তরফে রুপালি বিশ্বাসের সদস্যপদ খারিজের দাবি প্রশাসনের কাছে জানানো হবে।।” তাঁর আরও দাবি, ‘অনুপ্রবেশকারীদের জন্য অনৈতিকভাবে ডকুমেন্টস তৈরি করেছে তৃণমূল, তা আমরা হাতেনাতে ধরেছি।’
পঞ্চায়েত সদস্য রূপালি বিশ্বাস অবশ্য এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। পেশায় ব্যবসায়ী রূপালিকে প্রশ্ন করা হলে দেখা যায়, ক্যামেরার দিকে না তাকিয়ে দোকানের কচুরি ভাজায় মন দিয়েছেন তিনি। কড়ার দিক থেকে মুখ না তুলেই সোজা বলে দেন, ‘তোমাকে উত্তর দিতে পারব না ভাই।’ তবে উপপ্রধান তথা জেলা তৃণমূলের যুবনেতা সাহাবুদ্দিন মণ্ডলের সাফ জবাব, “কমিশনের নিরপেক্ষতাই এখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে। বিজেপির স্বার্থপূরণ করাটাই এখন যেন কমিশনের মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার নিজের নামও বিচারাধীন। সক্রিয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিপদে ফেলার চক্রান্ত করেছে বিজেপি।” তাঁর দাবি, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় বেছে বেছে সংখ্যালঘু ভোটারদের ’বিচারাধীন’ চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে ও তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের নাম ’ডিলিট’ করে দেওয়া হয়েছে।