AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Purba Medinipur: ৯১ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ, বিজেপির রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে থানায় দলেরই নেতা

Allegation against TMC leader: সিন্টু সেনাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। শাসকদলের পাঁশকুড়া শহর সভাপতি শেখ সমিরুদ্দিন বলেন, "দু'জনেই বিজেপি করেন। ফলে বিজেপির অন্দরে যে গুঁতোগুঁতি হচ্ছে, তাতে তৃণমূলকে টেনে লাভ নেই। সত্যটা বেরিয়ে আসবে। নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখেছেন। একজন নাগরিক হিসেবে চাইব তিনি বিচার পান।"

Purba Medinipur: ৯১ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ, বিজেপির রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে থানায় দলেরই নেতা
নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র (বাঁদিকে) অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সিন্টু সেনাপতির (ডানদিকে) বিরুদ্ধেImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Feb 07, 2026 | 12:53 PM
Share

পাঁশকুড়া: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পূর্ব মেদিনীপুরে অস্বস্তিতে পড়ল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের রাজ্য সম্পাদক সিন্টু সেনাপতির বিরুদ্ধে ৯১ লক্ষ টাকার বেশি প্রতারণার অভিযোগ উঠল। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় গেলেন জেলায় বিজেপির এক প্রবীণ নেতা। নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র নামে ওই প্রবীণ নেতার অভিযোগ, তাঁর সর্বস্ব লুটে পথে বসিয়েছেন দলের রাজ্য সম্পাদক। এমনকি, পাওনা টাকা চাইতে গেলে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মারধর করা হয় বলেও তাঁর অভিযোগ।  তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিন্টু সেনাপতি।

পাঁশকুড়ায় বিজেপির প্রবীণ নেতা নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র। একাধিকবার বিজেপির টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছেন। তবে জিততে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, দফায় দফায় তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সিন্টু সেনাপতি। নারায়ণকিঙ্কর মিশ্রর অভিযোগ, তাঁকে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি ও উচ্চ পদ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন সিন্টু সেনাপতি। একটা সময় নারায়ণবাবুকে সল্টলেকে আটকে রেখে তাঁর জমিজমা বিক্রি করিয়ে সিন্টু আর তাঁর দলবল জোর জবরদস্তি করে টাকা হাতিয়েছেন বলেন অভিযোগ।

প্রবীণ ওই বিজেপি নেতা বলেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছেও এই নিয়ে অভিযোগ জানান তিনি। কিন্তু, কোনও জবাব পাননি। তাঁর বক্তব্য, সমস্ত টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ১০ টাকার স্ট্যাম্প পেপারে সই করেছিলেন সিন্টু সেনাপতি। কিন্তু, টাকা ফেরত দেননি। উল্টে টাকা চাইতে গিয়ে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। থানায় অভিযোগ দায়েরের পর নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র তমলুক জেলা আদালতে বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন। নারায়ণকিঙ্কর বলেন, “১৯৮৮ সাল থেকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত আমি। ২০১১ সালে সিন্টু সেনাপতির সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। ও আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। বিজেপি নেতাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। তাঁরা কোনও পদক্ষেপ করেননি। তাই, বাধ্য হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি।” তিনি আতঙ্কিত বলেও জানান বছর চুয়াত্তরের প্রবীণ এই বিজেপি নেতা।

তবে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বিজেপি নেতা সিন্টু সেনাপতি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “উনি আগে আমাদের দল করতেন। কিন্তু, অনেকদিন দল করেন না।” তৃণমূলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রবীণ বিজেপি নেতা তাঁকে বদনাম করতে চাইছেন বলে তাঁর দাবি। নারায়ণকিঙ্করকে হুঁশিয়ারি দিয়ে পাল্টা সিন্টু বলেন, “আপনার জমি দালালির কারবার প্রকাশ পাবে।”

সিন্টু সেনাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। শাসকদলের পাঁশকুড়া শহর সভাপতি শেখ সমিরুদ্দিন বলেন, “দু’জনেই বিজেপি করেন। ফলে বিজেপির অন্দরে যে গুঁতোগুঁতি হচ্ছে, তাতে তৃণমূলকে টেনে লাভ নেই। সত্যটা বেরিয়ে আসবে। নারায়ণকিঙ্কর মিশ্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখেছেন। একজন নাগরিক হিসেবে চাইব তিনি বিচার পান।”