Domestic LPG cylinders: বুকিংয়ের জন্য লম্বা লাইন, পাশের হোটেলগুলিতে দিব্যি ব্যবহার হচ্ছে গৃহস্থের রান্নার গ্যাস
Domestic LPG cylinders used in restaurants: গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের কালোবাজারির অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে পদ্ম শিবির। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "কোনও ইস্যুকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ তৈরি হলে মানুষকে শান্ত করার দায়িত্ব সরকারের। রাজ্য সরকার এখানে নিজেরাই মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। নিজেরাই ব্ল্যাক করার জন্য সিলিন্ডার কিনে আনছে।"

শিলিগুড়ি: গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। কেন্দ্র আবার জানিয়েছে, শহরে ২৫ দিন পর দ্বিতীয় সিলিন্ডার বুকিং করা যাবে। আর গ্রামাঞ্চলে তা ৪৫ দিন। গ্যাস বুকিংয়ের জন্য সকাল থেকে গ্যাসের দোকানের বাইরে লম্বা লাইন পড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। সেখানে হোটেল, রেস্তোরাঁয় গৃহস্থের রান্নার গ্য়াস ব্যবহারের ছবি ধরা পড়ল। এই নিয়ে শোরগোল পড়েছে শিলিগুড়ি শহরে। গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগ পেয়েই নড়েচড়ে বসল শিলিগুড়ি পৌরনিগমও।
শুক্রবার সকালে শিলিগুড়ির আশ্রমপাড়ায় গ্যাসের দোকানের সামনে লম্বা লাইন দেখা যায়। গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে থাকেন গ্রাহকরা। সেখানে ওই গ্যাসের দোকানের উল্টোদিকেই একাধিক হোটেল রেস্তোরাঁয় দেখা যায়, গৃহস্থের রান্নার গ্যাসে রান্না হচ্ছে। গৃহস্থের রান্নার গ্যাসে হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্না করা যায় না। তারপরও এই সংকটের সময় কীভাবে হোটেল-রেস্তোরাঁয় গৃহস্থের রান্নার গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে?
এই নিয়ে একটি হোটেলের কর্মচারীদের প্রশ্ন করতেই, তাঁরা বলেন, “গ্যাসের সংকট চলছে তো। তাই, গৃহস্থের রান্নার গ্যাস দিয়ে কাজ চালাচ্ছি।” কিছুক্ষণ পর ওই দোকানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বাণিজ্যিক গ্যাসে রান্না হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গৃহস্থের রান্নার গ্যাস সরিয়ে নেওয়া হল কেন? হোটেলের কর্মীদের জবাব, “ওটা বাড়ির গ্যাস ছিল। শেষ হয়ে গিয়েছে।” পাশের আর একটি হোটেলে গিয়েও একই ছবি ধরা পড়ল। গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দিব্যি মাংস রান্না হচ্ছে। সেখানেও কর্মীদের একই উত্তর। হোটেলের মালিকের বাড়ির গ্যাস দিয়ে রান্না হচ্ছে।
এই নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহকরা। তাঁদের অভিযোগ, গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি হচ্ছে। তাঁদের গ্যাস না দিয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁয় ডোমেস্টিক গ্যাস পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নজর দেওয়া হচ্ছে না বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।
বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়তেই সক্রিয় হলেন শিলিগুড়ি পৌরনিগমের মেয়র গৌতম দেব। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চকে পথে নামতে নির্দেশ দিলেন। একইসঙ্গে শিলিগুড়ির মেয়র জানালেন, কালোবাজারি রুখতে কাল রাস্তায় নামবেন তিনি।
এদিকে, গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের কালোবাজারির অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছে পদ্ম শিবির। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “কোনও ইস্যুকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ তৈরি হলে মানুষকে শান্ত করার দায়িত্ব সরকারের। রাজ্য সরকার এখানে নিজেরাই মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। নিজেরাই ব্ল্যাক করার জন্য সিলিন্ডার কিনে আনছে।”
