e

খেজুরি: আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। ডেকরেটার্সের গোডাউনে থাকা একাধিক কর্মী দগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন ঘুমের মধ্যেই। ছাই হাতড়ে বের করা হচ্ছে একের পর এক দেহাংশ। ডিএনএ পরীক্ষা করে পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। একাধিক পরিবার মৃত্যুশোকে আচ্ছন্ন। শুধুই হাহাকার। কিন্তু যে কর্মীরা বেঁচে গিয়েছেন, তাঁদের দিন চলবে কীভাবে! আদৌ খুলবে তো গোডাউন? চিন্তায় কর্মীরা।
যে কোনও বড় দুর্ঘটনার পর অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের পালা শুরু হওয়া দস্তুর। কিন্তু কলকাতার আনন্দপুরে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের পর দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। যেখানে কারখানা ও গোডাউনের মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকার কথা, সেখানে একজোট হয়ে মালিক গঙ্গাধর দাসের পাশে দাঁড়িয়েছেন শ্রমিকরা। শনিবার রাতে হেঁড়িয়ায় সম্মিলিত হন শতাধিক শ্রমিক।
দীর্ঘদিনের শ্রমিক তপন মণ্ডল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বৈঠক স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সঙ্কটের মুহূর্তে তাঁরা তাঁদের মালিকের সঙ্গ ছাড়বেন না। গত ২৬ জানুয়ারির ওই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের পরপরই অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছিল যে ডেকরেটার্স ব্যবসায়ী গঙ্গাধর দাস তাঁর কর্মীদের ঠিকমতো বেতন দিতেন না। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কর্মীরা। তাঁরা বলছেন, ‘যাঁরা বলছেন কাজ করিয়ে পয়সা দেওয়া হত না, তাঁরা মিথ্যে বলছেন। বেতন না পেলে আমরা ১০-১২ বছর ধরে সেখানে কাজ করছি কীভাবে?’
কর্মীদের দাবি মালিক সর্বদা কর্মীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শুনেছেন এবং যথাযথভাবে পারিশ্রমিকও মিটিয়েছেন। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ওই প্রতিষ্ঠানটি খেজুরি, নন্দীগ্রাম, হাওড়া এবং কলকাতার প্রায় ২০০০ পরিবারের অন্নসংস্থানের জায়গা ছিল। তাঁদের বক্তব্য, ‘গঙ্গাধর দাসের ডেকরেটার্স ব্যবসার উদ্যোগ হাজার হাজার শিক্ষিত ও বেকার যুবকের কর্মসংস্থান করেছিল। তাই এই বিপদের সময় মালিককে কাঠগড়ায় না দাঁড় করিয়ে তাঁর হাত শক্ত করা প্রয়োজন, যাতে কারখানাটি আবার চালু হতে পারে।’
শ্রমিকরা অঙ্গীকার করেছেন, তাঁরা মালিকের পাশে থেকে আবার নতুন করে কাজ শুরু করতে চান। তাঁদের একমাত্র আর্জি, সরকার ও প্রশাসন যেন কারখানাটি পুনরায় চালু করতে সাহায্য করে, যাতে হাজার হাজার শ্রমিক আবার তাঁদের জীবিকা ফিরে পান।