AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Nandigram: চোর ধরতে সালিশি! পুলিশ নয়, ওঝা ডাকার নিদান, ‘সম্মতি’ গ্রাম পঞ্চায়েতেরও

Purba Medinipur: বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে 'নল-ধড়কা' কথাটি খুবই পরিচিত। এই 'নল-ধড়কা' নামক বস্তুর সাহায্যেই নাকি ওঝারা চোর ধরতে পারেন। পঞ্চায়েতের লেটারপ্যাডে সেই নল-ধড়কা চালানোর জন্য লোক আনার ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Nandigram: চোর ধরতে সালিশি! পুলিশ নয়, ওঝা ডাকার নিদান, 'সম্মতি' গ্রাম পঞ্চায়েতেরও
বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Jan 20, 2024 | 12:46 PM
Share

নন্দীগ্রাম: চোর ধরতে পুলিশ নয়, ওঝা ডাকার নিদান। স্বাধীনতার এতগুলি বছর পেরিয়ে এসে, যখন বিজ্ঞানে এত অগ্রগতি হচ্ছে, যখন চাঁদে পৌঁছে যাচ্ছে ভারত, তখন বাংলার এক কোণে এখনও এমন ছবি দেখা যাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া গ্রামে। আরও তাজ্জব করে দেওয়ার বিষয় হল, এই ওঝা ডাকার ক্ষেত্রে সম্মতি দিয়েছেন স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য নিজেই। একেবারে গ্রাম পঞ্চায়েতের লেটারপ্যাডে। সেখানে স্ট্যাম্প দিয়ে সই রয়েছে পঞ্চায়েত প্রধান ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যেরও।

বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ‘নল-ধড়কা’ কথাটি খুবই পরিচিত। এই ‘নল-ধড়কা’ নামক বস্তুর সাহায্যেই নাকি ওঝারা চোর ধরতে পারেন। পঞ্চায়েতের লেটারপ্যাডে সেই নল-ধড়কা চালানোর জন্য লোক আনার ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। লেখা আছে, ‘গৃহকর্তা প্রচলিত প্রথার বাইরেও মানসিক প্রশান্তির জন্য যাহাকে নল-ধড়কা বা বাটি চালানো বলে, যেটা খুশি আনিতে পারে। তাহার জন্য আমার কোনও আপত্তি নাই।’ সঙ্গে অবশ্য এও লেখা আছে যে এর জন্য যদি কোনও অশান্তি হয় তার দায় পঞ্চায়েতের নয়। নীচে স্ট্যাম্প-সহ সই রয়েছে পঞ্চায়েতের প্রধান ও সদস্যের।

জানা যাচ্ছে, ওই গ্রামে শিব শংকর জানা নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে সোনার গহনা চুরি হয়ে গিয়েছিল। সেই নিয়ে সালিশি সভা বসেছিল গ্রামে। সেই সভা থেকেই ঠিক হয় ওঝা ডাকার বিষয়ে। পরবর্তীতে ওঝা এসে ‘নল ধড়কা’ ব্যবহার করে বনবিহারী জানা নামে গ্রামেরই এক বাসিন্দাকে চিহ্নিত করে। এরপর ওই ব্যক্তির পরিবারের উপর নির্মম অত্যাচার ও মারধর চলে বলে অভিযোগ। শেষে বনবিহারী জানা নামে ওই ব্যক্তি নন্দীগ্রাম থানার দ্বারস্থ হন। লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি এই ঘটনায়।

যদিও বিজেপির পরিচালিত বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মৈত্রী গুড়িয়া দাসের বক্তব্য, “আমি কোনও অনুমতি দিইনি। তবে চুরি হয়েছে এবং নল-ধড়কা আসবে, সেটা আমি শুনেছিলাম। আমি বলেছিলাম এটা একটা কুসংস্কার, আমি মানি না। পরে শুনলাম যে কাগজে সই করা হয়েছে। কিন্তু আমি কোনও সই করিনি।” এদিকে বিষয়টি নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়ছেন না তৃণমূল নেতারা। তৃণমূল কংগ্রেসের নন্দীগ্রাম ১ ব্লক সভাপতি বাপ্পাদিত্ত গর্গ তিনি বলেন, ‘বিজেপি এখনও পর্যন্ত মধ্যযুগীয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেটার থেকে এখনও বের হতে পারেনি। এটা তার প্রমাণ।’

Follow Us