Bypoll Campaign: নন্দীগ্রামে দেখা নেই, রেজিনগরে প্রচারে জোর, কোন ‘খেলা’ খেলছে ঋতদের গণতান্ত্রিক তৃণমূল?
Democratic Trinamool Congress campaign: দুই আসনে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের দুই অবস্থান নিয়ে খোঁচাও দিল মমতা তৃণমূল। প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, "ডবল স্টান্ডার্ড। এটা রাজনৈতিক ভন্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।" গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে নিশানা করে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী বলেন, "ওটা তো খামের দল। খামে নোট ভরে দিয়েছে, চলে গিয়েছে।"

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর: ঠিক ২ সপ্তাহ পর রাজ্যের ২ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন। এই উপনির্বাচন ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়ছে। কিন্তু, নন্দীগ্রামে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়দের গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ এহতেশামুল হক সিদ্দিকী কোথায়? প্রচারে তো তাঁকে দেখা যাচ্ছে না। অথচ পূর্ব মেদিনীপুরেই রয়েছেন তিনি? আবার রেজিনগরে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ জোরকদমে প্রচার করছেন। দুই কেন্দ্রে ঋতব্রতদের দুই প্রার্থীর দুই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এক জায়গায় প্রচারে নেই আর অন্য জায়গায় জোরকদমে প্রচারের কারণ কী?
গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নন্দীগ্রামের প্রার্থী আপাতত রয়েছেন হলদিয়ার হোটেলে। হলদিয়া থেকে হলদি নদী পেরোলেই নন্দীগ্রাম। মেরেকেটে ১৫ মিনিট লাগে। সড়পথে ঘণ্টাখানেক। নন্দীগ্রামে ঋত শিবিরের প্রার্থী এহতেশামুল হক দিনকয়েক ধরে হলদিয়ায় থাকলেও এখনও নন্দীগ্রামে গিয়ে উঠতে পারেননি।
গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থীদের প্রতীক খাম। সেই প্রতীক ভোটারদের চেনাবেন কারা? পার্ক সার্কাসের বাসিন্দা এহতেশামুল হকের নামে নন্দীগ্রামে দেওয়াল লিখন এখনও দেখা যায়নি। ব্যানার, ফেস্টুনও চোখে পড়েনি। তারপরও অবশ্য জয়ের আশা ছাড়ছেন না গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী। বললেন, “মাঠে, ময়দানে জবরদস্ত লড়াই হবে। কম করে ২০ থেকে ৩০ হাজার ব্যবধানে এখান থেকে আমি জিতব।”
বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেস ও বামেরা যখন রাস্তায় রাস্তায় প্রচার করছে, তখন হলদিয়ার হোটেলে ঋত শিবিরের প্রার্থী। তবে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের দাবি, নন্দীগ্রামের তৃণমূল কর্মীরা তাদের সঙ্গে রয়েছেন। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বললেন, “নন্দীগ্রামের অসংখ্যা কর্মী আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। আমরা সবাই রাজা আমাদেরই রাজার রাজত্বে।” এহতেশামুল বলছেন, আগামিকাল থেকে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়বেন তাঁরা।
গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে এই নিয়ে খোঁচা দিল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, “ঋতব্রত তৃণমূল সারাদিন বড় বড় কথা বলছে। অথচ ভয়ের ঠেলায় নন্দীগ্রামে ঢুকছে না। এ লড়াই কংগ্রেসের লড়াই। কংগ্রেস লড়বে।” আবার বামেদের কটাক্ষ, “হোটেলে বসে আছেন। এলাকায় পা রাখতে পারছেন না। এরা কেবলমাত্র বিরোধী ভোটকে ভাগ করে দিতে চাইছে। দিয়ে বিজেপির সুবিধা করে দিতে চাইছে।”
নন্দীগ্রামে এখনও প্রচারে না নামলেও রেজিনগরে দেখা যাচ্ছে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখকে। তাঁর দাবি, একাধিক লেখায় প্রচার করেছেন তিনি। চলছে কর্মিসভাও। সফিউজ্জামানের প্রায় প্রত্যেক কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহেরকে। প্রচারের কৌশল ঠিক করতে বুধবার বহরমপুরে আসার কথা গণতান্ত্রিক তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের। সফিউজ্জামানের দাবি, রেজিনগরে তাঁদের সঙ্গে মূল লড়াই বিজেপির।
রেজিনগরে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রচার নিয়ে কটাক্ষ করেছে মমতা তৃণমূল। রেজিনগরে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী বলেন, “নওদা থেকে ৫-৭টা গাড়িতে করে লোক নিয়ে আসছে। নেতা অনেক আছে। কর্মী নেই।”
দুই আসনে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের দুই অবস্থান নিয়ে খোঁচাও দিল মমতা তৃণমূল। প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ডবল স্টান্ডার্ড। এটা রাজনৈতিক ভন্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।” গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে নিশানা করে কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী বলেন, “ওটা তো খামের দল। খামে নোট ভরে দিয়েছে, চলে গিয়েছে।” উপনির্বাচনে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের চালচলনে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা বাড়ছে। তারা লড়তে চাইছে, না লড়াইয়ের ভান করছে, সেই প্রশ্ন উঠছে।
