SIR Form 7: ফর্ম ৭-এ জ্যান্ত মানুষের নাম! তা দেখেই চোখ ছানাবড়া BLO-র, গ্রেফতার BJP কর্মী

SIR: ধৃত অমিত তমলুক শহরের ওই বুথে মোট ৩৪৩ জনের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তমলুক বিধানসভার ইআরও তথা মহকুমা শাসকের অফিসে ৭ নম্বর ফর্ম জমা করেছিলেন। তাতে বিএলও-র পরিবারের একাধিক জনের নামও ছিল। সেই লিস্ট খতিয়ে দেখার সময় দেখা যায়, শুধু বিএলও-র পরিবার নয়, বেশকিছু জীবিত ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার জন্যও ফর্ম জমা পড়েছে। এরপর প্রশাসনের নির্দেশেই বিএলও থানায় অভিযোগ করেন। সেই মতো পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

SIR Form 7: ফর্ম ৭-এ জ্যান্ত মানুষের নাম! তা দেখেই চোখ ছানাবড়া BLO-র, গ্রেফতার BJP কর্মী
বিজেপি কর্মী গ্রেফতারImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Jan 20, 2026 | 5:12 PM

তমলুক: তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ফর্ম ৭ জমা দেওয়া নিয়ে বিজেপিকে ডিজে দাওয়াই দিতে বলেছিলেন তৃণমূলের বুথ স্তরের কর্মীদের। সেই ঘটনার পর সোমবার রাজ্যজুড়ে দেখা যায় জায়গায়-জায়গায় ফর্ম ৭ জমা দেওয়া নিয়ে অশান্তি। কোথাও বিজেপি কর্মীদের হাত থেকে ফর্ম ছিনিয়ে নিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোথাও আবার বিজেপি বিধায়কের হাত থেকে ফর্ম কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই আবহের মধ্যে এবার আরও একধাপ এগিয়ে হল গ্রেফতারি। তমলুকে গ্রেফতার করা হল বিজেপি কর্মীকে। বিএলও-র অভিযোগ, জীবন্ত মানুষের ভোটারদের নাম বাদ দিতে ফর্ম ৭ জমা দিচ্ছিল পদ্মশিবির। বিএলও-এর অভিযোগে তমলুক পুলিশ গ্রেফতার করল বিজেপি কর্মীকে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম অমিত মণ্ডল। তাঁর বাড়ি তমলুক থানার পিতুলসাহা গ্রামে। অমিতের নামে  তমলুক বিধানসভার ২৪২ নম্বর বুথের বিএলও-র লিখিত অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার তমলুক থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। এ দিন, ধৃতকে পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টে তোলা হলে বিচারক সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। জানা যাচ্ছে, জনপ্রতিনিধি আইন (Representation of the People Act) ৩১ নম্বর ধারা লঙ্ঘন, ভিত্তিহীন হলফনামা সহ বেশ কিছু ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে সাত দিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে।

কীভাবে জানা গেল ফর্ম ৭ এর ভিতর জ্যান্ত মানুষের নাম?

ধৃত অমিত তমলুক শহরের ওই বুথে মোট ৩৪৩ জনের নাম বাদ দেওয়ার জন্য তমলুক বিধানসভার ইআরও তথা মহকুমা শাসকের অফিসে ৭ নম্বর ফর্ম জমা করেছিলেন। তাতে বিএলও-র পরিবারের একাধিক জনের নামও ছিল। সেই লিস্ট খতিয়ে দেখার সময় দেখা যায়, শুধু বিএলও-র পরিবার নয়, বেশকিছু জীবিত ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার জন্যও ফর্ম জমা পড়েছে। এরপর প্রশাসনের নির্দেশেই বিএলও থানায় অভিযোগ করেন। সেই মতো পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

যদিও তমলুক সাংগঠনিক জেলা কমিটির সম্পাদক সুকান্ত চৌধুরী বলেন, “বাংলায় পুলিশকে শাসকদল তৃণমূল দল ব্যবহার করে আইনের অপব্যবহার করছে। কমিশন ফর্ম বের করেছে ব্যবহার করার জন্য। ওই কর্মী মনে করেছেন নামের সমস্যা আছে হয়ত। তাই ব্যবহার করেছে ফর্ম।” যদিও, বিজেপির দাবি খারিজ করে পাল্টা আক্রমণ করে তমলুক সাংগঠনিক জেলা যুব তৃণমূলের সম্পাদক দেবদূত মিদ্যা বলেন, “বিজেপির এজেন্ডা এখন বাংলায় জীবিত মানুষকে মৃত করে দেওয়া। কিন্তু অবাক ব্যাপার এরা কতটা কারচুপি করছে যে খোদ বিএলও পরিবারের নামই বাদ। এমনি প্রশ্ন তোলে শাসকদল।”