
পূর্ব মেদিনীপুর: ‘ছেলে আমার হবে আইপিএস অফিসার।’ বুকে ছবি আঁকড়ে বসে দেবাদিত্যর মা। জীবিত ফেরা সুশান্ত জানা আদ্যপান্ত জানালেন,সেই ভয়ঙ্কর রাতের কথা। বাড়ি-বাড়ি গেল পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা। খোঁজ নেওয়া হল পরিবারের।
মূলত, কেউ পরিবারের অর্থের অভাব মেটাতে, কেউ আবার ঝোঁকের মাঝেই ছুটত আনন্দপুরে। কিন্তু পরিবারের মানুষজন বোঝেননি সেই আনন্দ নাম তাঁদের জীবনে কতটা নিরানন্দ ডেকে আনবে। আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে তমলুক ব্লকের শালিকাগড়চক, ধনিচকের দু’টি গ্রামের প্রায় ছ’জন নিখোঁজ। এর মধ্যে একজন আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরে এসেছেন।
একাধিক মানুষ এই আনন্দপুরে কাজে আবার কেউ উৎসাহে আসতেন। ফুলের ডেকোরেটিং কাজের নিপুণ মিস্ত্রীরা কাজ করতেন লক্ষ লক্ষ টাকার এই কারখানায় বলে জানা যায়। নন্দকুমারের সন্দীপ মাইতির হাত ধরে এরা জেলার গণ্ডি পেরিয়েছেন। তবে সেই গণ্ডি পেরোনোই কাল হল দেবাদিত্য,ক্ষুদিরাম,শশাঙ্কদের। নিখোঁজদের উৎকণ্ঠায় কান্নার রোল গ্রামে। আবার কোথাও বুকে ছবি আঁকড়ে ছাত্র ফেরার আশা, ছেলে আমার আইপিএস অফিসার হবে। বাবাকে বলেছে প্রজেক্ট কমপ্লিট চিন্তা নেই। কোথাও সেই আগুনের লেলিহান শিখা থেকে জীবন নিয়ে ফেরার অভিশপ্ত রাত ভেবেই অস্তির।
দেবাদিত্য দিন্দার মা বলেন, “হিরোর মতো দেখতে আমার ছেলেকে। রাতে বলেছিল মা আমি কাজ করতে যাব। আমি বললাম, কেন যাবি। আমার তো অভাব নেই। সকালবেলা বাবা বকবে বলে না বলে চলে গিয়েছিল। আমি নিজে হাতে ওর ব্যাগ গোছালাম। রাতে শেষবার ছেলেটার গলা শুনলাম…।”