
পূর্ব মেদিনীপুর: উচ্ছেদ রুখতে আদালতের ‘ভুয়ো’ স্টে অর্ডার দিয়ে গ্রেফতার কাঁথির আইনজীবী। এমনই দাবি পুলিশের। পুলিশের অতি সক্রিয়তার অভিযোগে কাঁথির আইনজীবীদের মৌন প্রতিবাদ এই নিয়ে তিন দিনে পড়ল। তীব্র নিন্দা বার কাউন্সিলের প্রাক্তন সহ সভাপতিরও। তবে ঘটনাকে ঘিরে কাঁথিতে পুলিশ ও আইনজীবীদের সংঘাত তীব্র! আইনজীবী গ্রেফতার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের সামনে লাগাতর তিন দিন মৌন প্রতিবাদ করলেন কাঁথি আদালতের আইনজীবীরা। আগামীকাল ফের অভিযুক্ত আইনজীবীকে পুলিশ হেফাজত থেকে আদালতে পেশ।
প্রসঙ্গত, কাঁথির একটি জায়গার উচ্ছেদ রুখতে কলকাতা হাইকোর্টের জাল স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) পেশ করার অভিযোগে কাঁথি সিভিল আদালতের আইনজীবী ঋত্বিক মাইতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, গত ২১ জানুয়ারি কাঁথির একটি দোকানঘর উচ্ছেদে পূর্ত দফতর ও পুলিশ অভিযান চালালে, মামলার আবেদনকারী দিব্যেন্দু বর একটি ভুয়ো নির্দেশনামা দেখিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন। ওই দিনই উচ্চ আদালতে বিষয়টি উত্থাপিত হলে জানা যায় যে, সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ থেকে এমন কোনও স্থগিতাদেশ ইস্যু করা হয়নি এবং নথিটি সম্পূর্ণ জাল।
এরপরই আদালতের নির্দেশে তদন্ত শুরু করে পুলিশ প্রথমে দিব্যেন্দু বরকে গ্রেফতার করে। জেরায় তিনি জানান, আইনজীবী ঋত্বিক মাইতিই তাঁকে ওই জাল নথিটি সরবরাহ করেছিলেন। পরবর্তীকালে ঋত্বিক মাইতির বয়ানে অসঙ্গতি এবং তাঁর কল ডিটেইলস রেকর্ডে ঘটনার যোগসাজশ মেলায় গত রবিবার বিকালে তাঁকে মরিশদা থানার দুরমুঠের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কাঁথি আদালত অভিযুক্ত আইনজীবীর ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
আর এই ঘটনা প্রতিবাদে ও পুলিশের অতি সক্রিয়তা কারণ দেখিয়ে এবার পথে কাঁথির আইনজীবী মহল। আইনজীবীদের ঘোষণার মত, তিনদিন ধরে প্রতিবাদ করেন আইনজীবীরা। এতেও যদি সুবিচার না পান তা হলে পরবর্তী পদক্ষেপ ও ঘোষণা করা হবে। সমগ্র ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ক্রিমিনাল বার ও সিভিল বারের আইনজীবীরা। এদিন খবর পেয়ে কলকাতার বার কাউন্সিলের প্রাক্তন সহ সভাপতি
প্রসূন কুমার দত্ত কাঁথি আসেন। এদিনের মৌন প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেন। এবং সমগ্র ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেন।